


নিজস্ব প্রতিনিধি, অণ্ডাল: রানিগঞ্জের বল্লভপুরে দামোদরে বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পাটার ব্রিজ। বেপরোয়াভাবে বালি তুলতে এই বন্দোবস্ত করে নিয়েছে বালি কারকারিরাই। তবে, শুধু রানিগঞ্জ নয়, একই কায়দায় নদীতে বাঁধ দিয়ে বালি তোলা হচ্ছে অণ্ডাল ব্লকের মদনপুর এবং দুর্গাপুর লাগোয়া শ্রীরামপুরেও। শুকনো দামোদরের উপর ছাই ফেলে গড়া হয়েছে রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে দৈত্যাকার ডাম্পার গিয়ে মাঝ নদী থেকে বালি তুলে আনছে। নদী থেকে বিপুল পরিমাণে বালি উঠলেও, শিল্পাঞ্চলে তার দাম আগুন। এক ট্রাক্টর বালির দাম সাড়ে ৩-৪ হাজার টাকা। বালি কিনতে কালঘাম বের হচ্ছে বাংলার বাড়ির উপভোক্তা কিংবা সাধারণ মানুষের।
রানিগঞ্জের বল্লভপুর থেকে নুপুর হয়ে মদনপুর বালিঘাটে যাওয়া যায়। সেখানে চলছে বিরাট কর্মকাণ্ড। একাধিক দৈত্যাকার ডাম্পার পিঁপড়ের মতো সারিবদ্ধভাবে অস্থায়ী ছাইয়ের রাস্তা ধরে নদীগর্ভে চলেছে। জেসিবি মেশিন দিয়ে বালি লোড করে তারা আবার বেরিয়ে আসছে। একই ঘটনা অণ্ডাল ব্লকের শ্রীরামপুরেও চলছে বলে অভিযোগ। দুর্গাপুর লাগোয়া এলাকা হওয়ায় বালিবোঝাই লরিগুলি স্টিলসিটি হয়ে বের হয়। রানিগঞ্জের বল্লভপুরেও বেপরোয়া বালি কারবারের ছবি ধরা পড়েছে। সেখানে ঘাটের নামই টাওয়ার ঘাট। বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইন যাওয়ার জন্য রয়েছে বিশাল টাওয়ার। তার নীচে দিয়েই চলছে বালিঘাট। কাছেই রয়েছে জল প্রকল্প। সেখান থেকে জলপূর্ণ বালির গাড়ি এসে রানিগঞ্জের শ্মশান কালী মন্দিরের কাছের রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে। রাস্তাটি শ্মশানকালী ও মথুরাচণ্ডী মন্দিরকে যুক্ত করেছে। এই রাস্তাই এখন বালি কারবারের করিডোরে পরিণত হয়েছে।
দুর্গাপুর-অণ্ডাল-রানিগঞ্জজুড়ে বালির খুল্লমখুল্লা বিপুল কারবার সত্ত্বেও শিল্পাঞ্চলে এখনও বালির দাম আগুন। এর পর্দাফাঁস করেছেন এক ট্রাক্টর চালক। তিনি বলেন, রানিগঞ্জের যেকোনও জায়গায় বালি ফেলতে সাড়ে ৩-৪ হাজার টাকা নেব। রানিগঞ্জ এলাকার বাইরে যেতে পারব না। সেখানে গেলে আবার নতুন করে টাকা জমা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বালিঘাট থেকে ২৪০০টাকায় বালি কিনতে হয়। বালি সরবরাহ করতে প্রতি ট্রাক্টরকে দৈনিক এক হাজার টাকা দিতে হয়। যাতে কোনও ঝামেলায় না পড়তে হয়।
জানা গিয়েছে, এটা শুধু রানিগঞ্জের ছবি নয়। শিল্পাঞ্চের প্রতিটি থানা এলাকাতেই এই রীতি চলছে। ট্রাক্টরে করে বালি সরবরাহ করতে হলে প্রতিদিন প্রতি ট্রাক্টরপিছু এক হাজার টাকা ‘কর’ দিতে হয়। দুর্গাপুর থেকে আসানসোলের ডামরা, সব জায়গায় একই ব্যবস্থা। টাকা দিলেই ট্রাক্টরের নম্বর নির্দিষ্ট খাতায় নথিভুক্ত হয়ে যাবে। তারপর কারবারের অবাধ স্বাধীনতা। এটাই অলিখিত নিয়ম।
আর এই ‘সিস্টেমে’র খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ‘কর’ যত বাড়ছে, কারবারিরা বালির দাম ততই বাড়াচ্ছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, বালির দাম অত্যন্ত বেশি। এ নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সমস্যা হচ্ছে, বালির বেশিরভাগ ব্লক বাঁকুড়া ও বীরভূমের অন্তর্গত। তাই আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি না। সিপিএম নেতা বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, মানুষের বালি কেনার সমস্যা নিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখেছি।