নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পঞ্জিকা মেনে পুজো শুরু হয়নি এখনও। কিন্তু উৎসবের আনন্দ উদযাপন শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামতে না নামতেই শুরু হচ্ছে প্যান্ডেল হপিং। বুধবারের সন্ধ্যা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ! দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী মোড় থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত মানুষের যেরকম ঢল দেখা গেল, তাতে কে বলবে যে সবে চতুর্থী! এদিন দুপুর থেকেই অবশ্য শহরের ছোটো-বড়ো মণ্ডপের সামনে কমবেশি ভিড় চোখে পড়েছে। মেঘলা আকাশ আর বিক্ষিপ্তভাবে এক-দু’পশলা বৃষ্টি কিছুটা বাগড়া দিলেও মানুষের উৎসাহে ঘাটতি পড়েনি। ছিটেফোঁটা বৃষ্টি গায়ে মেখেই ভিড় জমেছে মণ্ডপে মণ্ডপে। চতুর্থীতে ঠাকুর দেখার ভিড়ে তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের সংখ্যাই ছিল বেশি। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে হাতিবাগান বা গড়িয়াহাট থেকে শেষবেলার শপিং সেরে নিয়েছেন কেউ কেউ।
দেশপ্রিয় পার্কে ঠাকুর দেখতে গিয়ে গেট বন্ধ দেখে কিছুটা বিরক্তই হলেন অনেকে। এক তরুণী বলে ফেললেন, ‘মেট্রো থেকে এতখানি হেঁটে আসার পরিশ্রমটাই বেকার হয়ে গেল!’ হেঁটে আসা ছাড়া কার্যত অন্য কোনো উপায়ও ছিল না। কারণ, ভিড় বাসে নতুন জামাকাপড় পরে ওঠার পক্ষপাতী নয় জেন জি! তাছাড়া হাতে হাতে গুগল ম্যাপ তো আছেই। তবুও কেউ এগিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘স্যার, ত্রিধারাটা কোন দিকে?’ বাইকের উপর বসে থাকা এক পুলিশকর্মী রসিকতা করে বললেন, ‘ভেঁপুর আওয়াজ যতদূর যাচ্ছে, ততদূর চলে যাও।’
দক্ষিণ কলকাতা যেখানে চতুর্থী থেকেই ফ্রন্টফুটে খেলা শুরু করেছে, সেই জায়গায় উত্তর কলকাতার অনেক মণ্ডপ এখনও খোলেনি। তবে তাতে ভিড়ে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। হাতিবাগানের একাধিক নামকরা পুজো, কাশী বোস লেন এদিন ব্যাপক ভিড় টেনেছে। উদ্বোধনের পর থেকে জনজোয়ারে ভাসছে মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা ঝুমা হালদার বয়সে প্রবীণ। এদিন সন্ধ্যায় এক মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘প্রতি বছরই একটু আগে বেরিয়ে পড়ি। বয়স হয়েছে তো। এত বেশি ভিড় নিতে পারব না। তবে চতুর্থীতে বেরিয়েও দেখছি, যেন সপ্তমী-অষ্টমীর ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে!’
এদিকে, এই উৎসবমুখরতার মধ্যে সমস্যায় পড়ছেন অফিসবাবুরা। কারণ, এখনও বেশিরভাগ অফিস খোলা। কাজের শেষে বাড়ি ফিরতে নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। কারণ, বাসের দখল নিয়েছে ঠাকুর দেখতে বেরনো লোকজন। নতুন জামার সঙ্গে তাঁদের হাতে চিরাচরিত ভেঁপু। জনস্রোত থেকে সেই ভেঁপুর আওয়াজ জানান দিচ্ছে,বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব আসন্ন নয়, এসেই পড়েছে!



