Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় জনজোয়ার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে হাজির মহিলারা

রাতে বৃষ্টির পর সকালে গোমরামুখো আকাশ। মাঝেমধ্যে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি। গড়বেতার হাইস্কুলে মাঠের বিশাল মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা ছাপ।

মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় জনজোয়ার  লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে হাজির মহিলারা
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, গড়বেতা: রাতে বৃষ্টির পর সকালে গোমরামুখো আকাশ। মাঝেমধ্যে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি। গড়বেতার হাইস্কুলে মাঠের বিশাল মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা ছাপ। আদৌ কি হবে জনসভা? নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ কি আসতে পারবেন? বেলা বাড়তেই সব উৎকণ্ঠা ছপিয়ে হাইস্কুল মাঠ চেহারা নিল জনসমুদ্রে। মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় সবার হাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। 

Advertisement

দুপুর তখন একটা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যারের হেলিকপ্টার নামল স্কুলমাঠ সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে সোজা মঞ্চে। স্কুলমাঠে জায়গা না পেয়ে বহু মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়েই শুনলেন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য। মমতা স্মরণ করিয়ে দিলেন ‘অশান্ত গড়বেতা’কে। মঞ্চে উপস্থিত মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রার্থী সুজয় হাজরা, গড়বেতার তৃণমূল প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরা, খড়্গপুর গ্রামীণের তৃণমূল প্রার্থী দীনেন রায় সহ প্রথম সারির নেতারা। 
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় এই এলাকায় সন্ত্রাস ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই তৃণমূল কর্মী। সেই সময় এক বিধবা মহিলার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, তিনি আমার কাছে তৃণমূলের পতাকা ও বন্দুক চেয়েছিলেন। কারণ, তাঁর সন্তানকে হত্যা করে হয়েছিল। এই সব ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাঁদের নাম আমি নেব না। আমি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলাম, বিচার তিনি পাবেন।
এরপর উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মেদিনীপুর, গড়বেতা ও ঝাড়গ্রাম জুড়ে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আইটিআই, সোলার পাওয়ার স্টেশন, ২০টিরও বেশি বড় রাস্তা নির্মাণ, ২৬৪ কোটি টাকার রাস্তা প্রকল্প, গড়বেতা-২ ও ৩ নম্বর ব্লকে একাধিক রাস্তা এবং প্রায় ৩০টি জল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রগুলিকেও উন্নত করা হয়েছে। যা আগে মানুষ ভাবতেও পারত না। 
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, তাঁরা সকলেই এই সুবিধা পাবেন। সারা জীবন মা-বোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে থাকবেন। এখানে কোনও ভেদাভেদ নেই। এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন মা-বোনেরা। এরপরেই তিনি নিশানা করেন বিজেপিকে। মমতা বলেন, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা পূরণ করা হয় না। বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে মা-বোনদের ৮ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেই টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এটাই বিজেপির আসল রূপ। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাকরির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গেরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপির তরফে দেওয়া ১৫ লক্ষ টাকা বা ২ কোটি চাকরির কথা বলা হলেও কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। 
কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজকে দেশের মানুষকে পদে পদে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মোদি ও অমিত শাহ কি সাংঘাতিক নেতা, তা কল্পনাও করতে পারবেন না। এরা মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না। এদের শুধু অত্যাচার আর এসআইআর করতে জানে। বাংলাকে লক্ষ্য করেই একাধিক জনবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মানুষই এর জবাব দেবে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ