


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চলছেই। বার বার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন রাশ টানতে উদ্যোগী হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। রেজিনগরে রাতের অন্ধকারে সরকারি জমিতে, নদীর পাড়ে, বিলে জেসিবি নামিয়ে মাটিকাটা চলছে। সেই মাটি ট্রাক্টরে চাপিয়ে পাচার করা হচ্ছে। রেজিনগরের গোপালপুর-কাশিপুর, মাঙ্গনপাড়া কাছারি বাড়ি, লোকনাথপুর, জয়নগর এলাকায় অবাধে মাটি কেটে পাচার করছে দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় ইটভাটা সেই মাটি কিনে নিচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লাগাতার মাটি চুরির ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের। কোথাও কোথাও চাষের জমি সংলগ্ন মাঠ থেকেও মাটি চুরি হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী জমির মাটি গভীর করে কেটে নেওয়াতে চাষ জমিতে ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বার বার পুলিস প্রশাসনকে জানিও কোনও লাভ হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ন’টার পর জেসিবি এবং ট্রাক্টর মাঠে নেমে যাচ্ছে। যেখানে মাটি কাটা হচ্ছে, তা থেকে ৫০০-৭০০ মিটার দূরে রাস্তায় ১০-১২ জন দুষ্কৃতী পাহারা দিচ্ছে। যাতে গ্রামবাসীরা কেউ প্রতিবাদ করতে না পারে। মাঠ থেকে মাটি কাটার পর পাহারা দেওয়া সেই রাস্তা দিয়েই মাটি বোঝাই ট্রাক্টর অবাধে চলে যাচ্ছে ইটভাটায়।
গোপালপুর-কাশিপুর এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এখানে মাটি কাটা শুরু হয়েছে। মাঝখানে জটাধারী পুজো থাকায় এলাকায় পুলিস ও প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছিল। সে জন্য দু’ দিন মাটি কাটা বন্ধ ছিল। বুধবার রাত থেকে ফের মাটিকাটা চলছে। রাতের বেলায় সাড়ে ন’টা নাগাদ মাটিকাটা শুরু হচ্ছে। ভোর পর্যন্ত তা চলছে। সারারাত ধরে ট্রাক্টরে করে মাটি পাচার হচ্ছে। স্থানীয় পুলিস, প্রশাসন সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয় না।
রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। অবৈধভাবে মাটি চুরি বন্ধ হোক। যেভাবে রাতের অন্ধকারে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে, তাতে বেশকিছু এলাকায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনকে বলব কড়া পদক্ষেপ করুক। কোনও ভাবেই এই সমস্ত অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, অবৈধভাবে মাটি চুরির ব্যাপারে আমরা খবর পেয়েছি। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন এবং পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি চিঠি করেছি। একটি জায়গায় বৈধভাবে মাটি কাটার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার বাইরে রাতে যে সমস্ত জায়গায় অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে সেগুলি অবিলম্বে বন্ধ করা হবে।