নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গঙ্গা ভাঙণে বিপর্যস্ত শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকার ঘাট। কোথাও বড় বড় ফাটল, কোথাও আবার ঘাটের একাংশ তলিয়ে গিয়েছে গঙ্গা গর্ভে। মায়ের প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় বিপদের আশঙ্কা করছেন শহরতলির বড় অংশের মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ছোট-বড়ো প্রতিটি ঘাটে কড়া নজরদারির দাবি উঠেছে। কারণ, সর্বজনীন পুজোর পাশাপাশি পাড়ার পুজো ও গৃহস্থ বাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য কচি-কাঁচারা গঙ্গায় আসে। অনেকে ঘাটে নেমে স্নান করে বাড়ি ফেরে। তাই ঘাটের বিপদ না জেনে জলে নামলে সমূহ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বিভিন্ন পুরসভার তরফে সতর্কতা সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে৷
বরানগর থেকে খড়দহ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ গঙ্গা পাড় জুড়ে কয়েকশো ঘাট রয়েছে। ছোট বড়ো প্রাচীন ওইসব ঘাটের দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ভরা জোয়ারে বানের তোড়ে ওইসব ঘাটে বড় ফাটল ধরেছে। কোথাও গঙ্গাগর্ভে ঘাটের একাংশ তলিয়ে গিয়েছে। কোথাও পাড় ধসে বহু বাড়ি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ঘাটে স্নান করতে নেমে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই অবস্থায় দ্রুত গঙ্গা পাড় ও ঘাট সংস্কারের দাবি বহু বছর ধরে করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুজোর আবহে প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী তথা খড়দহের বিধায়ক কল্যাণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা ভাঙা গঙ্গাপাড় পরিদর্শন করেছিলেন। প্রতিমা বিসর্জনের কথা মাথায় রেখে দ্রুত রাসখোলা ঘাট সংস্কারের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু তা সম্পন্ন হয়নি। খড়দহের রাসখোলা ঘাটের মতো, বাবুঘাট, ক্যাম্প ঘাট, শ্যামসুন্দর ঘাটও ভাঙনের কবলে পড়েছে। একইভাবে পানিহাটির বাজারপাড়া ঘাট, পঞ্চাননতলা সহ বেশিরভাগ ঘাট দীর্ঘ সংস্কারের অভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বরানগরে মহাপ্রভুর পদধূলি ধন্য গৌরাঙ্গ ঘাট সংস্কারের অভাবে মৃত্যু ফাঁদ হয়ে রয়েছে। ফলে প্রতিমা বিসর্জনের সময় গঙ্গার ঘাটে নামলে বিপদের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। খড়দহ পুরসভার চেয়ারম্যান নিলু সরকার বলেন, সংস্কারের অভাবে অনেক ঘাটই বিপজ্জনক। কিন্তু রাসখোলা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের সমস্তরকম পরিকাঠামো তৈরি করা রয়েছে। তার উপর পুলিশ ও পুরসভার তরফে কড়া নজরদারি রাখা হবে। মানুষকে সচেতন করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



