Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘সাহস সংক্রামক’, বিদ্রোহের পর বলছেন ঋতব্রত, সন্দীপন, তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮, একজন জেলে

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যে দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছিল।

‘সাহস সংক্রামক’, বিদ্রোহের পর বলছেন ঋতব্রত, সন্দীপন, তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮, একজন জেলে
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যে দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করল তৃণমূল। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছিল। আর জুন মাসের ১ তারিখ দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

Advertisement

গত কয়েকদিন ধরেই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে ঋতব্রতকে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা রবিবারের বৈঠকে উপস্থিতও ছিলেন না তিনি। আর সোমবার বহিষ্কারের খবর সামনে আসার পর দলের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক ঋতব্রত। তিনি সরাসরি জানালেন, বিরোধী দলনেতা বাছাই নিয়ে কোনো রেজল্যুশন নেওয়া হয়নি। তৃণমূলের অগণতান্ত্রিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আমি বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছি। চিঠির খসড়া আমার তৈরি করে দেওয়া। তাতে সমর্থন দিয়েছেন বিধায়ক সন্দীপন সাহা। ঋতব্রতর দাবি, তৃণমূলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ভোট লুট করেছে বিজেপি। কিন্তু তা মিথ্যা। আমি জিতলাম কীভাবে? আর যে গণনাকেন্দ্রে আমার আসনের গণনা হয়েছে, সেখানে অধিকাংশ তৃণমূল প্রার্থীই জিতেছেন। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের স্বীকার করে নেওয়া উচিত ছিল যে, আমরা হেরে গিয়েছি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসন। দু’জন বিধায়ককে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। ফলে এখন তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৭৮। আর বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল জেলে রয়েছেন। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, দল বিরোধী কাজের জন্যই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ৬ তারিখ কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ১৯ তারিখ আবার বৈঠক হয়। ঋতব্রতর অভিযোগ, ১৯ তারিখের বৈঠকে বলে দেওয়া হল আমরা যেন ৬ তারিখ উল্লেখ করে সই করি। আর উপস্থিত নেই, এমন বিধায়কদের সই পরে দলের তরফে করে দেওয়া হল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূলের আমলে। তখনকার রাজ্য সরকার জানত না, এটা হতে পারে না।
তিনি দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই মুখ খুলেছেন। আরও অনেকেই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা ঋতব্রত। তাঁর দাবি, আমি এবং সন্দীপন সাহস দেখিয়েছি। আর সাহস সংক্রামক। এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ুক। 
পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁর বক্তব্য, যেদিন বিধায়ক হিসাবে শপথ নিলাম, সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে কাজ করব। কিন্তু তৃণমূল দলটাই দেখলাম অনৈতিক কাজ করে ফেলেছে। বিধানসভার আইন মেনে চলা সকলের কর্তব্য। কিন্তু বিধায়কদের সই জাল করে তৃণমূল অনৈতিক কাজ করে ফেলেছে। অ্যাটেন্ডেন্স খাতায় ব্লক লেটারে নাম লিখে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভার গরিমা নষ্ট হয়েছে। যখন হেরে গিয়েও দুর্নীতি এবং অনৈতিক কাজ দেখলাম, তখন আর চুপ করে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হলাম। দলটাই তো উঠে যেতে বসেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ