নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কোথাও শাড়ির দোকানে পছন্দের রং খুঁজতে ব্যস্ত ক্রেতা। কোথাও পাঞ্জাবির সম্ভার ঘেঁটে চলছে বাছাই। শপিং মলের বিলিং কাউন্টারে লম্বা লাইন। লাইন জুতোর দোকানেও। প্রসাধনীর দোকানে ভিড় মহিলাদের। সব মিলিয়ে পুজোর আগে শেষ রবিবার কার্যত জনসমুদ্রের চেহারা নিল বারাসতের হরিতলা বাজার।
পুজো মানেই নতুন জামা, নতুন সাজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। সেই আনন্দ রঙিন করে তুলতে বাঙালির প্রস্তুতিও তুঙ্গে। পুজোর চার দিন, সাজের চার রকম পরিকল্পনা। সপ্তমীতে আধুনিক সাজ, অষ্টমীতে সাবেকি বাঙালিয়ানা, নবমীতে জমকালো পোশাক, আর দশমীতে লাল-সাদার মায়া। কোন দিন কী পরা হবে, কোন পোশাকের সঙ্গে মানাবে কোন জুতো, সাজের সঙ্গে কেমন গয়না— সব কিছু নিয়ে চলছে চুলচেরা হিসাব। রবিবারের ভরা বাজারে চাই উপচে পড়ল ভিড়। বারাসতের হরিতলা বাজারে শাড়ি ও পাঞ্জাবির চাহিদা চোখে পড়ার মতো। তাঁতের শাড়ি, লালপাড় সাদা শাড়ি, সাবেকি পোশাক থেকে শুরু করে আধুনিক কাটের কুর্তা— সবেতেই ক্রেতাদের আগ্রহ। বাঙালিয়ানার ছোঁয়া ধরে রেখে পোশাকে আধুনিকতার মিশেল চাইছেন অনেকেই। সহেলি সেনগুপ্ত নামে এক ক্রেতার কথায়, ‘পুজোর চারদিনের জন্য আলাদা আলাদা পোশাক কেনার পরিকল্পনা আছে। শেষ রবিবার যে ভিড় হবে, জানতাম। তবু পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা একসঙ্গে সেরে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
কেনাকাটা পর্বে আলাদা করে নজর কেড়েছে কাপল ড্রেসের চাহিদা। দু’জনে একই রঙের পোশাক, শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে কুর্তা বা পাঞ্জাবি—এভাবেই ঠাকুর দেখতে বেরনোর পরিকল্পনা রয়েছে বহু যুগলের। সামাজিক মাধ্যমে একসঙ্গে ছবি দিতে হবে! তার জন্যও অনেক কাপল সাজে মিল রাখতে চাইছেন। তবে চাহিদা থাকলেও বারাসতে মনের মতো ‘কাপল ড্রেস’ মিলছে না বলে অনুযোগ শোনা গেল কিছু তরুণ-তরুণীর থেকে। পুজোর সাজে ‘ম্যাচিং লুক’-এর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে তাঁদের। সোহম চক্রবর্তী নামে এক ক্রেতার কথায়, ‘রং মিলান্তি পোশাক পরব বলে ভেবেছিলাম। বেশ কয়েকটি দোকানে খোঁজও করলাম। কিন্তু মনের মতো কাপল ড্রেস পেলাম না।’ বাড়ির বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটার ভিড় দেখা গিয়েছে সর্বত্র। বারাসতের পাশাপাশি হাবড়া স্টেশন সংলগ্ন বাজার, অশোকনগর, দেগঙ্গায়ও পুজোর কেনাকাটা কেন্দ্র করে ভিড় উপচে পড়তে দেখা যায়। মধ্যমগ্রামের স্টেশন সংলগ্ন বাজারের ছবিটাও ছিল একই।



