মিসাইলের ‘অপটিকাল সাইট’ সরবরাহের বরাত প্রাক্তন চেয়ারম্যানের পারিবারিক সংস্থাকে, বিতর্ক
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলের ‘অপটিকাল সাইট’ সরবরাহের বরাত ঘিরে প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ডিনামিক্স লিমিটেড (বিডিএল)। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদন ঘিরে উঠছে অনিয়মের অভিযোগ। ওই রিপোর্টে দাবি, বিগত তিন বছরের প্রথা ভেঙে মিসাইলের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অপটিকাল সাইট’ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থাকে। কোনো রকম প্রতিযোগিতা ছাড়াই সেই বরাত পেয়েছে বিডিএল-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা এমডি সিদ্ধার্থ মিশ্র ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থা। ফলে এই ইস্যুতে ‘স্বার্থের সংঘাত’ ঘটেছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement

হায়দরাবাদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিডিএল-এ চার বছর সিএমডি পদে থাকার পর ২০২৩ সালের মার্চে অবসরগ্রহণ করেন সিদ্ধার্থ মিশ্র। ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি স্ত্রী সম্ভাবী মিশ্রের সঙ্গে তৈরি করেন ঐন্দ্রী ডিফেন্স অ্যাডভাইজরি প্রাইভেট লিমিটেড। বর্তমানে এই সংস্থার ৯৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে মিশ্রের স্ত্রী সম্ভাবীর নামে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘জরুরি পরিস্থিতি’র উল্লেখ করে অন্য কোনো সংস্থাকে প্রতিযোগিতায় না ডেকেই ‘সিঙ্গল টেন্ডার’-এর মাধ্যমে ৩০০টি ‘অপটিকাল সাইট’ সরবরাহের বরাত প্রাক্তন প্রধান মিশ্রের ওই পারিবারিক সংস্থার হাতে তুলে দেয় বিডিএল। চলতি বছরের মে মাসে ওই ‘সিঙ্গল টেন্ডার’ ইস্যু করা হয়। 
অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা নির্ধারণ ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘অপটিক্যাল সাইট’। এগুলি ইনফ্রারেড রেডিয়েশন সংগ্রহ করে সেগুলিকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে পরিণত করে। তারপর সেই সিগন্যালগুলিকে পাঠিয়ে দেয় কো-অর্ডিনেটর ইউনিটগুলির কাছে। ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মিসাইলে ব্যবহৃত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরবরাহের বরাত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কাছ থেকে কীভাবে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই পেয়ে গেল প্রাক্তন প্রধান ও তাঁর স্ত্রীর তৈরি কোম্পানি? কোন ‘জরুরি পরিস্থিতি’র কারণ দেখিয়ে সেই বরাত দেওয়া হল? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ইস্যুতে টেক্সট মেসেজ করা সত্ত্বেও সিদ্ধার্থ মিশ্র ও তাঁর স্ত্রী সম্ভাবীর কাছ থেকে কোনো জবাব মেলেনি। ইমেলের উত্তর আসেনি তাঁদের সংস্থা থেকেও। কৌশিকী জানিয়েছেন, বিডিএল-এর টেন্ডার সংক্রান্ত কোনো তথ্য তিনি দিতে পারবেন না। উত্তর মেলেনি বিডিএল-এর কাছ থেকেও।