


তিরুবনন্তপুরম ও নয়াদিল্লি: কিস্সা কুর্সি কা! মুখ্যমন্ত্রী বাছাই ঘিরে কেরলমে তুলকালাম। রাস্তায় নেমে হাঙ্গামা শুরু করেছেন তিন মূল দাবিদারের সমর্থকেরা। কে সি বেণুগোপাল, ভি ডি সতীশন ও রমেশ চেন্নিথাল্লা— কংগ্রেসের এই তিন নেতার গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয়েছে চরম কোন্দল। মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি ঘিরে একে অপরের পোস্টার-ফ্লেক্স ছিঁড়ে, কালি লাগিয়ে চলছে বিক্ষোভ। বাদ যাচ্ছে না প্রকাশ্যে হেনস্তাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ বন্ধের অনুরোধ করতে হয়েছে দলের প্রবীণ নেতাদের। তাঁরা বলছেন, এভাবে চাপের কৌশল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা যায় না। এই আবহেই শনিবার বিকেলে দাবিদার তিন নেতাকে নিয়ে দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। যদিও কার নামে শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ডের সিলমোহর পড়ে, তা নিয়ে সাসপেন্স অব্যাহত। তারই মধ্যে এদিন তিরুবনন্তপুরমে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে মুরলীধরন বলেন, দিল্লি থেকে যা খবর পাচ্ছি তাতে শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের আলোচনা শেষ হয়ে যাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাম ঘোষণা হয়ে যাবে।
ভাবী মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কোন পথে? তিরুবনন্তপুরমে এদিন সাংবাদিকদের মুরলীধরন বলেন, শুধুমাত্র ফ্লেক্স ও বোর্ড লাগিয়ে, বিক্ষোভ দেখিয়ে নেতৃত্ব নির্ধারণ সম্ভব নয়। তবে আমার কেন্দ্রে মানুষের আবেগ কোন দিকে, সেকথা হাইকমান্ডের প্রতিনিধিদের জানিয়েছি। কী বলেছি, তা প্রকাশ্যে জানবে না। শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত সঠিক সময়েই সামনে আসবে। কে কত প্রবীণ নেতা, শুধুমাত্র সেই মাপকাঠিতেই সর্বদা সিদ্ধান্ত হয় না। দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের মতামতের পাশাপাশি শরিকদের বক্তব্যও সমান প্রাসঙ্গিক। জোট সরকার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শরিক দলগুলির বক্তব্যও বিবেচনা করতে হবে। দাবিদার তিন নেতার পাশাপাশি পার্টি শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকে দিল্লি এসেছেন কেরলম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফও। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের আশা শীঘ্রই ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বই। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছে ফ্লেক্স-যুদ্ধ ও প্রকাশ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি ঘিরে তিন নেতার সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য রাস্তায় যেভাবে ফ্লেক্স-যুদ্ধ ও বিক্ষোভ চলছে, তার বিরোধিতায় সরব হয়েছেন পি জে ক্যুরিয়ান এবং টি সিদ্দিকিও। ক্যুরিয়েন বলেন, মতামত প্রকাশের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। তবে ফ্লেক্স নষ্ট করে তাতে কালি ঢেলে দেওয়া সঠিক নয়। এভাবে চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারণ হয় না। সিদ্দিকির আক্ষেপ, দলীয় কর্মীরাই যেভাবে প্রবীণ নেতাদের প্রকাশ্যে আক্রমণ করছেন তা বেদনাদায়ক।