শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে প্রচারপর্ব শুরু হয়ে গেলেও দলীয় প্রার্থী জেলবন্দি। তাই, প্রার্থী মিলন প্রধানের ছবি নিয়েই প্রচারে নামবে কংগ্রেস। সঙ্গী হবেন মিলনবাবুর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। তাঁকে দিয়েই উপ নির্বাচনের প্রথম দেওয়াল লেখাতে চাইছে হাতশিবির। মিলন ইস্যুতে সহানুভূতির তাস খেলেই ভোট প্রচারে সাড়া ফেলতে মরিয়া কংগ্রেস। জমি আন্দোলনের আঁতুরঘর নন্দীগ্রাম থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ তাদের। রাজ্য নেতৃত্ব ছাড়াও সর্বভারতীয় নেতৃত্ব ভোট প্রচারে আসবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নন্দীগ্রামের মাটিতে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো জায়গায় পৌঁছে যেতে চাইছে কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে জেলবন্দি মিলন হচ্ছে কংগ্রেসের তুরুপের তাস।প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করার পর জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর নাম নিয়ে চর্চা চলছে। আমরা ভোট প্রচারে সশরীরে তাঁকে পাচ্ছি না। তাই তাঁর ছবি ব্যবহার করব। একইসঙ্গে তাঁর স্ত্রীও আমাদের এই লড়াইয়ের সঙ্গী হবেন। নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে প্রথম দেওয়াল লিখন তাঁর স্ত্রীকে দিয়েই করানো হবে।’
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও মিলন আদৌ প্রার্থী থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দোলাচলে ছিলেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। কারণ, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ তাঁকে চণ্ডীপুরের হোটেল থেকে আটক করার পর পুলিশ প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের চাপ দেয় বলে দলের অভিযোগ। জোর করে প্রত্যাহার নথিতে সই করানো হয়েছে কি না, তানিয়েও সংশয়ে ছিলেন নেতৃত্ব। নমিনেশন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের প্রতীক বিলির কাজ সম্পন্ন হতে কংগ্রেস নেতৃত্ব হাঁফ ছাড়েন। প্রার্থী গ্রেপ্তার হলেও লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরানো যায়নি। আর, মিলনবাবুর এই লড়াকু মানসিকতাকেই কুর্ণিশ জানিয়ে দল এবার ভোটে তাঁর ছবিকে হাতিয়ার করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যেতে চায়।
নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস নেতৃত্ব মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা করতেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসরাফুতুল্লা, দলের এসসি, এসটি সেলের জেলা সভাপতি সুকোমল শেঠ। মিলন নন্দীগ্রামে সাংগঠনিক কাজকর্ম করেন এবং পরিযায়ী নেতা বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। কিন্তু, আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। প্রার্থী গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নিয়ে বিরূপ নেতারাও আদাজল খেয়ে প্রচারে ঝাঁপানোর অঙ্গীকার করছেন। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রামের বাইপাসে ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ে বসেছিলেন ব্লক সভাপতি আসরাফুল্লা সাহেব, দলের সংখ্যালঘু সেলের জেলার চেয়ারপার্সন শেখ তব্রিকুল এবং কেন্দামারি অঞ্চলের নেতা সাবিনূর রহমান সহ আরও অনেকে। ব্লক সভাপতি বলেন, ‘আমরা দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করব। নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু হবে। আমাদের প্রার্থীকে যে কায়দায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।’বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ‘এই ভোটে বিরোধীরা ছন্নছাড়া। নন্দীগ্রামের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের উপরই আস্থা রেখে ভোট দেবেন। তাঁর হাত শক্ত করতে চাইছেন। আমাদের প্রার্থী হাসিরানি রথ এক লক্ষেরও বেশি মার্জিনে জয়ী হবেন।’


