নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছিল ৪ মে। আর উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হল ৯ অক্টোবর। এই পাঁচ মাসেরমধ্যে বাংলার রাজনীতিতেবিরোধী দলগুলির মধ্যে সেরা দুই ঘটনা। একদিকে, অভাবনীয় উত্থান কংগ্রেসের। হাত চিহ্নের পতাকা উঠে এল প্রধানবিরোধী দলের ভূমিকায়। অন্যদিকে, তৃণমূল ভেঙে দুই টুকরো হলেও, মমতা তৃণমূলকে ছাপিয়ে যেতে পারল না ঋতব্রত তৃণমূল।
শুক্রবার রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনের ফল প্রকাশ হওয়ার পর রাজনীতির কারবারিরা অনেক হিসেব-নিকেশ শুরু করে দিয়েছেন। রাজ্যের শাসক দল বিজেপি প্রথম স্থানেই রয়েছে। সেইসঙ্গে জয়ের গতি বাড়িয়ে আরও রুদ্ধাশ্বাসে দৌড়তে শুরু করে দিয়েছে। উপনির্বাচনের এদিনের ফল ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছে, পুজোর পর কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনেও শহরজুড়ে পদ্মফুল ফোটার সম্ভাবনাই প্রবল।
দ্বিতীয় স্থানে কোন বিরোধী দল? তাতে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে পরিসংখ্যান বলছে, নিজস্ব সংগঠনের দৌলতে বাংলার মাটিতে কংগ্রেস শক্তি বৃদ্ধি করছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রার্থীকে গ্রেপ্তার, কর্মীদের আটক ও গ্রেপ্তার, প্রচারে বাঁধা দেওয়া, বিজেপির তাণ্ডব, পুলিশি জুলুমের পরেও কংগ্রেস প্রার্থী ৪১ হাজারের বেশি ভোটে পেয়েছেন। যেখানে মাত্র পাঁচ মাস আগে নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৭৯৪টি ভোট। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, পুলিশ আর নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোট লুঠ করেছে। নাহলে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত ছিল। পাশাপাশি রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেও কংগ্রেসের হাত’এ ভোট এসেছে। কংগ্রেস প্রার্থী ৬১৬৮টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪১০১ ভোট পেয়েছিল। পাঁচ মাসে ভোট আরও বাড়াল। রাজনীতিবিদরা মনে করছেন,কংগ্রেসে নবজোয়ার এসেছে!
অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত। জোড়াফুল প্রতীকও হাতছাড়া হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদলকে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও খাম চিহ্ন প্রতীক দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর মমতা তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী এহেতাশামূল হক পেয়েছেন মাত্র ৮৫৩টি ভোট। সকলের প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। আর রেজিনগরে ঋতব্রতর প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ২০৪৪টি ভোট। ষষ্ঠ স্থান পেয়েছেন তিনি। এই কেন্দ্রে মমতার প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি ৩৮৪৭টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন। মমতার দাবি, এটা ভোট হয়েছে, যে ফল নিয়ে বলব। পুলিশকে দিয়ে ছাপ্পা করিয়েছে। প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে নন্দীগ্রামে সিপিএম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি ৫৭৭৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। আর রেজিনগরে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সৈয়দ ৩৭৯৭ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, গোটা ভোট প্রক্রিয়া লুঠ হয়েছে। একসময় ডায়মন্ড মডেল বলা হত, এখন তো প্ল্যাটিনাম মডেল!



