চেন্নাই ও গুয়াহাটি: তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরির উপনির্বাচনে বিশাল জয় পেল শাসকদলগুলি। তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের ধারা অব্যাহত রেখেই বিজয় ম্যাজিক অক্ষুণ্ণ। দক্ষিণের এই রাজ্যে মাদুরানতাকম ও ধারাপুরম— দুই বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেই জয়ী হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল টিভিকে। যদিও পাঁচ মাস আগে এই দু’টি আসনেই জয়ী হয়েছিল এআইএডিএমকে। শুক্রবার ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, দু’টিতেই তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার দল। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ‘সঙ্গীহীন’ ডিএমকে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভাঙার পর এই প্রথম একক শক্তিকে ভোটে লড়ল এম কে স্ট্যালিনের পার্টি। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের অপ্রত্যাশিত উত্থানে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার হাতছাড়া হয়েছিল স্ট্যালিনের। পাঁচ মাস পর দুই আসনের উপনির্বাচনে একক লড়াই সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্থান দখল করাটা নিশ্চিতভাবেই অক্সিজেন দেবে ডিএমকে-কে। পড়শি পুদুচেরিতেও মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর দল এআইএনআরসি বড়ো জয় পেয়েছে। থাট্টানচাভাড়ি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন এআইএনআরসি-র প্রার্থী অশোক আনন্দ ৮৪০০ ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী ই বিনয়াগমকে। দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি কংগ্রেসকে ধাক্কা খেতে হয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসমেও। সেখানে নগাঁও লোকসভা আসনটি হাতছাড়া হয়েছে হাত শিবিরের। এই আসনে দেড় লক্ষাধিকের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী প্রাক্তন আইএএস অফিসার দেবাশিস শর্মা। গত লোকসভা নির্বাচনে এই অসনটি থেকে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রদ্যুৎ বরদলোই। পরে তিনি ইস্তফা দিয়ে বিধানসভা ভোটে দিসপুর আসন থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে নগাঁও লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। এদিন ফলপ্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, পূর্বের জেতা আসনেই কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। হাত শিবিরের প্রার্থী শিবমণি বোরাকে তিন নম্বরে ঠেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল।
তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস, বাম ও অন্যান্য দলগুলির সমর্থনে সরকার চালাচ্ছেন টিভিকে প্রধান বিজয়। পাঁচ মাস আগে বিধানসভা ভোটে রাজ্যের ২৩৪টির মধ্যে ১০৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল। ম্যাজিক ফিগার ১১৮ হওয়ায় সরকার গড়ার জন্য কংগ্রেস ও বাম সহ অন্যান্য দলগুলির সমর্থন নিতে হয়েছিল টিভিকে-কে। উপনির্বাচনে দু’টি আসন এআইএডিএমকের হাত থেকে ছিনিয়ে আনায় শক্তির বিচারে টিভিকের অবস্থান আরও কিছুটা মজবুত হল। ঘোড়া কেনাবেচার চেষ্টা সহ যাবতীয় অভিযোগ পিছনে ফেলে বিজয় প্রমাণ করলেন, নির্বাচনি রাজনীতিতে তাঁর জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী।



