নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ২৯টি বুথ থেকে ৬৭১৪ভোটের লিড পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। অর্থাৎ ওই ২৯টি বুথে ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে বিজেপির জয়ী হাসিরানি রথকে টপকে কংগ্রেস এক নম্বরে পৌঁছে গিয়েছে। দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৮টি বুথের মধ্যে ছ’টি বুথ থেকে লিড পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। আবার, মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৯টি বুথের মধ্যে কংগ্রেস ছ’টি বুথে এক নম্বরে রয়েছে। এছাড়াও ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দীনবন্ধুপুর, নন্দীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচটি বুথ, খোদামবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের আমড়াতলা ১০২ নম্বর বুথ, সামসাবাদের তিনটি বুথ কেন্দামারি-জালপাই পঞ্চায়েতের চারটি বুথ, কালীচরণপুর পঞ্চায়েতের তিনটি বুথ থেকে বিজেপির চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ সুপিয়ানের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৯ নম্বর বুথে বিজেপির জয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ৬৮৪টি ভোট। আর, কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১৪৭টি ভোট।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর, সামসাবাদ, কালীচরণপুর, কেন্দামারি-জালপাই এবং দাউদপুর এলাকায় সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস বেশি। ওই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তৃণমূল কংগ্রেস একচেটিয়া ভোট পেত। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটেও এই সমীকরণে হেরফের হয়নি। কিন্তু, ৪মে পালাবদলের পর নন্দীগ্রামের মুসলিম ভোট ব্যাংক কোন দিকে যাবে তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। তাছাড়া, মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সেই চর্চা আরও বেশি জোরালো হয়। এরমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২অক্টোবর নন্দীগ্রামে পর পর তিনটি সভা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান। তারপর সংখ্যালঘু ভোটাররা সত্যিই বিজেপির পাশে দাঁড়াবে নাকি মুখ ফিরিয়েই থাকবে সেটাই ছিল, এই উপ নির্বাচনের পরখ করার বিষয়।
ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ভোটারদের একটা বড়ো অংশ কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে। যদিও কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী মিলনবাবুর বক্তব্য, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুট না হলে ছবিটা বদলে যেত। কংগ্রেস অনেক সমীকরণ হেরফের করে দিত। কিন্তু, ভোটারদের থেকে বুথ স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আঙুলে কালি দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। তারমধ্যেও যেসব জায়গায় মানুষ ভোট দিতে পেরেছে, সেখানে আমরা ভালো ফল করেছি।
ভেকুটিয়া অঞ্চলের একমাত্র দীনবন্ধুপুর বুথ থেকে কংগ্রেস প্রার্থী ১৯৫ ভোটে লিড পেয়েছেন। এছাড়াও মহম্মদপুরের ৫৭নম্বর বুথে ৩৫৭ ভোট, ৫৮ নম্বর নয়াচক বুথে ৭১, ৬০ নম্বর বুথে ৩১২, ৬১ নম্বর বুথে ৩৫৩, ৬২নম্বর বুথে ২০২ ও ৬৩ নম্বর বুথে ১৬৬ ভোটের লিড পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। ব্লক সদর নন্দীগ্রামের ৭২ নম্বর বুথে ৩৩৩ ভোট ও ৭৩ নম্বর বুথে ১৭০ভোটের লিড পেয়েছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজে ৭৫নম্বর বুথে কংগ্রেসের লিড ৩০৯ ভোট। ৮০ নম্বর গদাইবলবাড় বুথে কংগ্রেস এগিয়ে ৩৯৩টি ভোটে। ৮১নম্বর বুথেও বিজেপি পিছিয়ে ৪১ ভোটে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বুথ ৭৯ নম্বর নন্দনায়েকবাড়ে কংগ্রেসের তুলনায় হাসিরানি রথ ৪৩৮টি ভোট বেশি পেয়েছেন।দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে একটানা পাঁচটি বুথে কংগ্রেস লিড পেয়েছে। ১৮৫ নম্বর বুথে ৪৮২টি ভোট, ১৮৬ নম্বরে ৯৯, ১৮৭ নম্বরে ২৩৪, ১৮৮ নম্বর বুথে ৩৭২ ও ১৮৯ নম্বরর বুথে ১৯৫টি ভোটে পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি। ১৯১ নম্বরেও ১০১ ভোটে পিছিয়ে বিজেপি। এভাবে মোট ২৯টি বুথে কংগ্রেস বিজেপিকে ছাপিয়ে গিয়েছে।



