Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনামী দলকে ১০ হাজার কোটি অনুদান কার স্বার্থে? জেপিসি তদন্তের দাবি জানাল কংগ্রেস

‘রেজিস্টার্ড, কিন্তু অস্বীকৃতি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে বিজেপির সি-টিম। কোরাপশন টিম।’

অনামী দলকে ১০ হাজার কোটি অনুদান কার স্বার্থে?  জেপিসি তদন্তের দাবি জানাল কংগ্রেস
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘রেজিস্টার্ড, কিন্তু অস্বীকৃতি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে বিজেপির সি-টিম। কোরাপশন টিম।’ বুধবার এই মর্মে অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। হাত শিবিরের প্রশ্ন, ‘কার স্বার্থে এবং কাদের মদতে এই কোটি কোটি টাকার লেনদেন? সব জেনেও কেন চুপ নির্বাচন কমিশন? কেন হাত গুটিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা?’ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তে জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি (জেপিসি) গঠন করার দাবি করলেন এআইসিসি মুখমাত্র তথা গুজরাত বিধানসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শক্তি সিং গোহিল। 

Advertisement

গোহিলের অভিযোগ, বেআইনি এই টাকাই দল ভাঙানোর খেলায় ব্যবহার করে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারদের মতো ২০ এনসিপিআই সাংসদের ইস্যু তোলেন তিনি। বলেন, সম্প্রতি তৃণমূলকে কীভাবে ভেঙে সম্পূর্ণ অনামী এনসিপিআইতে যোগদান করিয়েছে বিজেপি, সবাই তা দেখেছে। ওই দলটিও নির্বাচন কমিশনের খাতায় রেজিস্টার্ড, কিন্তু আনরেকগনাইজড। যদিও এনসিপিআই এ ধরনের কোটি কোটি টাকা অনুদান পায়নি বলেই পালটা দাবি করেছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। তিনি জানান, ‘আমাদের এনসিপিআই দলের ভাঁড়ারে ২১ হাজার ৮৬০ টাকা ব্যালান্স রয়েছে। কোনো অনৈতিক লেনদেনে নেই আমাদের দল। তাই এইসব অভিযোগ বিভ্রান্ত করা ছাড়া কিছু নয়।’
গরিব কল্যাণ পার্টি, আম জনমত পার্টি, সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দলের মতো গুজরাতের ছ’টি অনামী রাজনৈতিক দলের ভাঁড়ারে এসেছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। একইভাবে গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে এমনই অনামী রাজনৈতিক দল। যাদের সিংহভাগই কোনোদিন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণা করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের রিপোর্ট হাতিয়ার করে রাহুল গান্ধীর দলের অভিযোগ, এরকম ৩ হাজার ২৬০টি ‘অদ্ভূত’ রাজনৈতিক দল রয়েছে। আর সেই দলের নামেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়ে কালো টাকা ব্যবহার করেছে বিজেপি। 
বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে শক্তি সিং গোহিল বলেন, আয়কর আইনের ৮০ জিজিবি এবং ৮০ জিজিসি ধারার অধীনে রাজনৈতিক দলকে দেওয়া অনুদানের ক্ষেত্রে কর সুবিধা পাওয়া যায়। আর সেই রাস্তা ব্যবহার করেই এই রাজনৈতিক দলগুলিকে মাধ্যম করেছে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এবং সংস্থা। রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেওয়ার বিনিময়ে কর ছাড়ের সুবিধা নিয়েছে। আবার পরে সেই অনুদানের একটি অংশ কমিশন কেটে দাতাদের নগদে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে। বিজেপিই এ ধরনের নামগোত্রহীন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে। কংগ্রেস মুখপাত্রের প্রশ্ন, ‘প্রথম ছ’টি এ ধরনের দলই গুজরাতের! তবে কি নরেন্দ্র মোদির প্রশয়েই তৈরি হয়েছে? কেন চুপ মোদিজি?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ