


সংবাদদাতা, ডোমকল: নওশাদের দল আইএসএফের সঙ্গে জোট হলেও আসন রফা নিয়ে জটিলতা চলছে। তার মধ্যেই পদ্মা পাড়ের জলঙ্গি বিধানসভায় আইএসএফকে জোটসঙ্গী ধরে নিয়েই দেওয়াল লিখন শুরু করে দিল বামেরা। নামের জায়গা ফাঁকা রেখে বাম-আইএসএফ জোট প্রার্থীকে কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে দেওয়াল লেখা হল বিধানসভার নানা এলাকায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আসন রফা চূড়ান্ত না হওয়ার আগেই বামেদের এই হঠকারিতা নিয়ে অসন্তুষ্ট আইএসএফ। এদিকে, সুযোগ বুঝে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল।
কয়েক দশক ধরে জলঙ্গি বিধানসভা ছিল বামেদের দখলে। রীতিমতো ‘লাল দূর্গ’ বলে পরিচিত ছিল এই আসনটি। এমনকি, ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের সময়ও এই আসন ধরে রেখেছিল বামেরা। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েই ওই আসনে জয়লাভ করেছিল সিপিএম। এরপর থেকে ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ে বামেরা। ২০২১ সালে ওই আসনে জয়লাভ করে তৃণমূল। এরপর ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখেও ওই বিধানসভায় তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে রয়েছে বামেরা। ফের দোরগোড়ায় বিধানসভায় নির্বাচন। এবার বামেদের সঙ্গে জোট হয়নি কংগ্রেসের। ফলে, দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রতীকে লড়াই করতে পেরে বেশ চমমনে কংগ্রেস কর্মীরা। পিছিয়ে নেই বামেরাও। এই অবস্থায় জলঙ্গির পাশপাশি সারা রাজ্যেই নিজেদের লড়াই জোরদার করতে শরিক দলের পাশাপাশি তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী জোট করতে আইএসএফের দিকেও তাকিয়ে রয়েছে বামেরা। যদিও লাগাতার বৈঠক হলেও আসন রফা নিয়ে জটিলতা কাটেনি। সেই জটিলতা মাথায় নিয়ে জলঙ্গি বিধানসভায় দেওয়াল লিখে আইএসএফের উপর সিপিএম খানিক চাপ বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আইএসএফ বিষয়টি বেশ ক্ষুব্ধ। দলের মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতি হাবিব শেখ বলেন, ‘জোট নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে আমাদের সমস্যা এখনও কাটেনি। অথচ, তার আগেই ওরা আমাদের সঙ্গে জোট হয়েছে বলে জলঙ্গি সহ জেলার নানা প্রান্তে নিজেদের প্রতীক এঁকে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছে বামেরা। এটা আমরা সমর্থন করছি না।’
জলঙ্গি বিধানসভার তৃণমূলের অবজারভার সৌমিক হোসেন বলেন, ‘সিপিএম এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। তাই কখনও আইএসএফ, কখনও হুমায়ুন কবির, কখনও বা অন্য কারও ঘাড়ে চেপে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে। তাতে অবশ্য কাজের কাজ কিছু হবে না।’ যদিও সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য তথা বাম নেতা জামাল হোসেন বলেন, ‘আইএসএফের সঙ্গে আমাদের জোট নিয়ে যা জটিলতা ছিল, তা প্রায় কেটেই গিয়েছে। আমরা মোটামুটি নিশ্চিত, আইএসএফের সঙ্গে জোট হচ্ছে। যেহেতু বিধানসভার সময়ে এগিয়ে আসছে, তাই জোট হবে এই ধরে নিয়েই কিছু জায়গায় এরকম দেওয়াল লিখন হয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত জোট না হয় তাহলে দেওয়াল থেকে আইএসএফের নাম মুছে দেওয়া হবে।’