থিমে একে অপরকে টেক্কা, পুজোয় সেজে উঠেছে বর্ধমান শহর, তৃতীয়ায় মণ্ডপ উদ্বোধন
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সেজে উঠেছে বর্ধমান। নীল পরীর দেশ, তিরুপতি বালাজি মন্দির, স্বপ্নালোক, জারোয়া আদিবাসীদের গ্রাম উঠে এসেছে রাজাদের শহরে। নারী পাচার বা অত্যাচারের ছবি ফুটিয়ে তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এই শহরে। এবার ১৯৪৬সালে বাংলার সেই ভয়াবহ দিনগুলির কথা উঠে এসেছে। গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবিও এবার প্রথম দেখা যাবে শহরের মণ্ডপে। নাড়ি কলোনির একটি পুজো মণ্ডপের সামনে চলবে ‘বন্দে ভারত’। মণ্ডপসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। মঙ্গলবার তৃতীয়ায় বেশকিছু মণ্ডপের উদ্বোধন হয়। আজ, চতুর্থীতেও বেশকিছু মণ্ডপের উদ্বোধন হবে। চারদিকে জ্বলে উঠছে রংবেরংয়ের আলো। বদলে যাচ্ছে শহর। উৎসব প্রিয় বর্ধমানবাসী থিমের লড়াই দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন। 

Advertisement

টিকরহাট পুজো কমিটির এবছরের থিম ৪৬-এর আর্তনাদ। স্বাধীনতার আগে অশান্ত বাংলার ছবি ফুটে উঠেছে এই পুজো মণ্ডপে। এখানে থাকছে গোপাল মুখোপাধ্যায়ের কৃতিত্বের ছবি। বিবেকানন্দ সেবক সংঘের থিম ‘চাইনা হতে উমা’। নারী পাচারের করুণ ছবি এই মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। শহরের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো করছে লাল্টু স্মৃতি সংঘ। তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। জিটি রোডের পাশে এই মণ্ডপে উদ্বোধনের সন্ধ্যা থেকেই ভিড় উপচে পড়বে বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। বাজেপ্রতাপপুর রেলওয়ে ট্রাফিক কলোনির মণ্ডপও এবার নজর কাড়বে। তাদের থিম স্বপ্নালোক। নানা চোখ ধাঁধানো ছবি মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চৌরঙ্গি ক্লাবের পুজো মণ্ডপে দেখা যাবে নীল পরী। পরীদের দেশ কেমন হয়, সবকিছুই চাক্ষুষ করা যাবে এখানকার পুজো মণ্ডপে। নজরুলপল্লি বারোয়ারি ক্লাবে দেখা যাবে রুদ্রাক্ষের কাজ। সবুজ সংঘ প্রত্যেকবারই চমক দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এবার এখানে তৈরি হয়েছে দুবাইয়ের স্বামী নারায়ণ মন্দির। 
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ধমানে পুজোর আমেজ প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ পুজো চলছে। রাজবাড়িতেও শুরু হয়েছে পুজো। তৃতীয়ার সন্ধ্যা থেকে শহরের বাসিন্দাদের অনেকে মণ্ডপ দেখতে বেরিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার লাল্টু স্মৃতি সংঘ, পারবীরহাটা সর্বজনীন, বিবেকানন্দ সেবক সংঘের পুজোর উদ্বোধন হয়। প্রশাসনও সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে। যদিও শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যা থেকে। জিটি রোডে ভারী যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। বর্ধমানের বাসিন্দা তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, শহরজুড়েই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বর্ধমান শহরেও পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। জেলায় এবার প্রায় দেড় হাজার নতুন পুজো কমিটি অনুমোদন পেয়েছে। সরকারি আর্থিক সহায়তাও পুজো কমিটিগুলি পেয়ে গিয়েছে। এখন শুধু উৎসবে মাতার পালা। কোন কোন পুজো মণ্ডপ এবার চমক দেয় এখন সেটা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে শহরবাসী।