নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আবারও বড়োসড়ো অভিযোগ উঠে গেল। পশ্চিমবঙ্গে ‘বিচারাধীন’ তালিকার ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারকদের নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ ওই বিচারাধীন ভোটারদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ছিল বিচারকদের উপর। ‘সিভিক রিসার্চ গ্রুপ’ নামে একটি সংস্থার দাবি, সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পর মোট ৩০ লক্ষ ৫৪৫ জন ভোটারকে ‘যোগ্য’ বিবেচনা করে তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন বিচারকরা। কিন্তু অভিযোগ, ওই ৩০ লক্ষ ৫৪৫ জন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরও তার মধ্য থেকে ১৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৮৭ জন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে খোদ নির্বাচন কমিশনই এসআইআর ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছিল! এখানেই শেষ নয়, বিচারকরা ১৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৮৭ জন ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করলেও কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হল তার কোনো কারণও ব্যাখ্যা করেনি কমিশন।
ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ২২২টি কেন্দ্রে কমিশন নিজেই ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। শুধুমাত্র মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরেই ৪৪.৬ শতাংশ ভোটারের নাম বিচারকরা তালিকাভুক্ত করার পরও তা বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল কমিশন। শুধুমাত্র মালদহেই এমন ৩ লক্ষ ৩ হাজার ৮৯৬ জনের বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়েছিল কমিশন। এছাড়া মুর্শিদাবাদে ২ লক্ষ ৭৪৯৫ এবং উত্তর দিনাজপুরে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৬৯ জন ভোটারের বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। ‘সিভিক রিসার্চ গ্রুপ’ নামে ওই সংস্থার আরও দাবি, মালদহের সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৬১ হাজার ৩৬ জন ভোটারের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছিল কমিশন।
কমিশনের বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ উঠেছিল ইআরওদের তরফে জমা পড়া ‘অটো জেনারেটেড’ ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে বাংলায় ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের কোনো কারণ দর্শানো হয়নি বলেও অভিযোগ। আর এবার ‘সিভিক রিসার্চ গ্রুপ’-এর এই দাবি গোটা বিতর্কে অন্য মাত্রা যোগ করল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।



