Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬

মহালয়ায় মহাআন্দোলন ককরোচদের, যেখানে আটকাবেন সেখানেই যন্তরমন্তর, হুঁশিয়ারি দিপকের, জ্ঞানেশ ইস্যুতে সরব খাড়্গে

মহালয়াতেই মহাআন্দোলন! ঘোষণা করে দিল ‘ককরোচ’রা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে শুরু হচ্ছে ‘যন্তরমন্তর ২.০’।

মহালয়ায় মহাআন্দোলন ককরোচদের, যেখানে আটকাবেন সেখানেই যন্তরমন্তর, হুঁশিয়ারি দিপকের, জ্ঞানেশ ইস্যুতে সরব খাড়্গে
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মহালয়াতেই মহাআন্দোলন! ঘোষণা করে দিল ‘ককরোচ’রা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে শুরু হচ্ছে ‘যন্তরমন্তর ২.০’। তবে প্রবল প্রতিরোধ আসতে পারে দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আর তা আঁচ করেই নরেন্দ্র মোদি সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে— ‘যেখানেই আটকাবেন, সেখানেই যন্তরমন্তর হবে। যত কঠোর নিরাপত্তাই থাকুক, ১০ অক্টোবর আমরা দিল্লি পৌঁছাবই।’ শুক্রবার, গান্ধীজয়ন্তী থেকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে আন্দোলন শুরু করেছে ‘ককরোচ’রা। আম আদমি পার্টি, নাগরিক সমাজ, বামপন্থীরাও বিক্ষোভ দেখিয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। মুম্বই এবং দিল্লিতে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। শনিবারও দিল্লিতে জারি ছিল হাই অ্যালার্ট। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় শহরজুড়ে। এদিনও দিল্লির যন্তরমন্তরে তুলকালাম হয়েছে। আইসা নেত্রী নেহা বোরার নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখিয়েছে পড়ুয়ারা। কপিল সিবাল, যোগেন্দ্র যাদবরাও রাস্তায় নেমেছেন। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এদিন থেকে দেশজুড়ে মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করেছে কৃষকরা। আগামী ১০ অক্টোবর পোড়ানো হবে জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুলও। মহালয়ায় ফের আন্দোলনে নামছে বাম ছাত্র-যুবদের সংগঠন। তারা সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ-কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে এদিন। তার আগে অবশ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন ‘ককরোচ’-প্রধান দিপকে। সাফ বলেছেন, ‘এবার আর ব্যাটন চালানোর মতো ভুল করবেন না। তাহলে আপনার পদত্যাগও কেউ আটকাতে পারবে না।’

Advertisement

আসলে গত ২০ জুলাইয়ের প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়েছেন দিপকে। ওইদিন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ‘ককরোচ’রা সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরই অধীন দিল্লি পুলিশ দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ করে। এমনকি পেরেক লাগানো ব্যাটন দিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারা হয় বলেও অভিযোগ। সেই কারণেই দিপকের হুঁশিয়ারি। আর তা থেকে পরিষ্কার যে, ‘যন্তরমন্তর ২.০’ পর্বে ককরোচ জনতা পার্টিও যথেষ্ট আগ্রাসী ভূমিকা নেবে। দিপকে নিজে অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁরা শান্তি বিঘ্নিত করবেন না। অর্থাৎ, পরিস্থিতি অশান্ত হলে তার দায় পুরোপুরি মোদি সরকারের। শুক্রবার মধ্যরাতেই দিল্লি চলো অভিযানের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। দিপকে ঘোষণা করেন, ‘১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে জমায়েতের জন্য ককরোচরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা দেবে।’ শনিবার অবশ্য তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘১০ অক্টোবরের আগেই আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার চেষ্টা করবে সরকার।’ তবে তিনি পিছু হটবেন না। ‘ককরোচ’দের সাফ কথা, ইতিমধ্যে যদি জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দেন, তাহলে আর যন্তরমন্তরে জমায়েতের কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। সেটা জ্ঞানেশ কুমার নিজে বুঝতে পারলেই সবথেকে ভালো। অর্থাৎ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইস্তফার জন্য ঠিক এক সপ্তাহের চরম সময়সীমা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ