নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ, রবিবার থেকে প্রতিদিন হবে ‘যন্তরমন্তর চলো’ অভিযান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই প্রতিদিন আন্দোলন চলবে। শনিবার দিল্লিতে একথা ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। পাশাপাশি আজ, রবিবার থেকেই দেশের প্রত্যেক প্রান্তে পৃথক কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। এদিন দিল্লিতে সিপিএম কার্যালয় হরকিষেণ সিং সুরজিৎ ভবনে এসএফআই সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম সদস্য অজিঙ্ক সিন্ধে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সর্বতোভাবে রক্ষা করতে চাইছে। এসআইআরে কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতেই হবে। যতদিন পর্যন্ত তিনি ইস্তফা না দেবেন, ততদিন পর্যন্ত এভাবেই আন্দোলন চলবে।’ এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাম ছাত্র সংগঠনগুলিও এই দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। সারা দেশের মতো দিল্লিতেও নিয়মিতভাবে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি হবে। তবে আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। যেখানেই আন্দোলনকারীদের পুলিশি প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে, সেখানেই যন্তরমন্তর তৈরি হবে।’
শনিবারই দিল্লি পুলিশের বিশেষ সূত্রে জানানো হয়েছে, যেসব বিধিনিষেধ শহরের বিস্তীর্ণ অংশে জারি করা হয়েছে, তা খুব বেশি শিথিল হচ্ছে না। ককরোচদের আন্দোলন পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হবে। দিল্লি পুলিশের এমন নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনিতে অবশ্য চিন্তায় পড়েছে আমজনতা। শনিবার ককরোচ জনতা পার্টি এবং বাম ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের জেরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো কার্যকর ছিলই। পাশাপাশি দিল্লি উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর সীমানা, দিল্লি নয়ডার চিলা সীমানা, দিল্লি হরিয়ানার সিংঘু ও টিক্রি সীমানার মতো এলাকাতেও ব্যাপক পুলিশি নজরদারি ছিল। জানা যাচ্ছে, সীমানা এলাকাগুলিতে এবার নিয়মিতভাবে নজরদারি চালাবেন পুলিশ কর্মীরা। গাড়ি, বাইক থামিয়ে চলবে তল্লাশি। করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ। এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষের অভিযোগ, সকালে ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান জানায়নি দিল্লি পুলিশ। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তির দাবি তুলেছে ছাত্র সংগঠনগুলি। সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশের জিম্মায় দিপকে রয়েছে গুরুগ্রামের কোনো স্থানে। সৌরভকে নিয়ে আসা হয়েছে দিল্লির কোনো অজানা স্থানে। রাঙ্কা রয়েছেন দিল্লির দ্বারকায়। এরই মধ্যে খবর এসেছে, শনিবার মুম্বইয়ে মারা গিয়েছেন অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমা। দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই দিপকের কাছে সেই খবর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও ককরোচ জনতা পার্টি সাফ জানিয়েছে, ‘ডাহা মিথ্যা কথা বলছে দিল্লি পুলিশ। অভিজিতের কাছে এখবর পৌঁছনোই যায়নি। দিপকের কাছে মোবাইল ফোন নেই। পুলিশ কেড়ে নিয়েছে। ফলে ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দিপকের অজানা।’ এদিন রাতে সিজেপির পক্ষ থেকে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কোথায় রয়েছেন জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের রেহাইয়ের দাবি করা হয়েছে।



