Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪৮ ঘণ্টায় জ্ঞানেশের ইস্তফা চাই, ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির

‘জ্ঞানেশ, ইট’স ডান ব্রো!’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পর এবার ককরোচদের টার্গেটে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

৪৮ ঘণ্টায় জ্ঞানেশের ইস্তফা চাই, ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘জ্ঞানেশ, ইট’স ডান ব্রো!’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পর এবার ককরোচদের টার্গেটে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিত মিলেছিল বুধবারই। বৃহস্পতিবার দুপুরে এল সরাসরি হুঁশিয়ারি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তফা দিতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। নাহলে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লিতে হবে চরম আন্দোলন, ‘যন্তরমন্তর ২.০’! স্কুলের পর এবার ‘নির্বাচন কমিশন ঠিক করো’ অভিযানে নামছেন অভিজিৎ দিপকেরা। বুধবার একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে, এসআইআর ইস্যুতে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি এবং মতামতকে গ্রাহ্যই করেননি জ্ঞানেশ কুমার। কার্যত একতরফাভাবেই এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় ‘বেআইনি’ সিদ্ধান্ত তিনি চাপিয়ে দিয়েছেন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর রীতিমতো বিপাকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ড্যামেজ কন্ট্রোলে মরিয়া হয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশন এবং মোদি সরকার। তার মধ্যেই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসেরা এদিন অভিযোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে দেশের সবথেকে বড়ো বিশ্বাসঘাতকের নাম জ্ঞানেশ কুমার। অন্যতম দেশদ্রোহী তিনিই। তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে। ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলাম। এর মধ্যে ইস্তফা না দিলে ককরোচরা দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবে। আবারও ধর্নায় বসবে।’ বুধবারই জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে ককরোচদের গলাতেও। 

Advertisement

সিজেপির তরফে এদিন গোটা বিষয়টি নিয়ে এই অনলাইন স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। তোলা হয়েছে আরও তিনটি দাবি— এক, শুধু ইস্তফা নয়, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে হবে। কে তাঁকে ‘অর্ডার’ দিয়েছিল? এই প্রশ্নেরও জবাব চাই। দুই, আপাতত স্থগিত রাখতে হবে আগামী যাবতীয় নির্বাচন। সাম্প্রতিক এসআইআর বাতিল করে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাকে মান্যতা দিতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ে যাচাই করতে হবে এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়া। আর তিন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করতে হবে নতুন আইন। এমনকি, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র, রিপোর্ট উধাও হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে ককরোচরা। অবিলম্বে সেগুলি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে রাখার দাবি তোলা হয়েছে। মাত্র দু’মাস আগে ঠিক এভাবেই নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছিল গোটা দেশ। সেবার তদানীন্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে একপ্রকার বাধ্য করে জেন জি ও ‘ককরোচ’রা। একমাসব্যাপী দীর্ঘ আন্দোলন হয় দিল্লির যন্তরমন্তরে। এদিন ককরোচরা ফের তেমনই আন্দোলনের হুমকি দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রমাদ গুণছে মোদি সরকার এবং দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন। অক্সিজেন পেয়েছে কংগ্রেস-মমতা তৃণমূল-সমাজবাদী পার্টিও।
ককরোচদের নেতা দিপকে স্পষ্ট বলেছেন, ‘আমাদের কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি মোহ নেই। কিন্তু গণতন্ত্রে বিরোধী থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিরোধীদেরই মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে কীভাবে স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব? পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে একধাক্কায় ৫০ হাজার ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও তা হয়েছে।’ এব্যাপারে এদিন দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘যারা সামনে থেকে কিছু করতে পারছে না, তারাই পিছনে দাঁড়িয়ে এসব উসকানি দিচ্ছে। আবারও বলছি, সঠিক ভোটদানের ব্যবস্থা করানোর জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে পদ্ম-পুরস্কার দেওয়া উচিত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ