Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ডের কয়লা ও বাংলার বালি বরাকরের স্রোত উজিয়ে দেদার পাচার

শরৎকাল হলেও দফায় দফায় বৃষ্টিতে নদী এখনও বেশ খরস্রোতা। দু’পাড় ঢাকা ধবধবে সাদা কাশফুলে। পাড় ধরে মানুষের নিত্য যাতায়াত।

ঝাড়খণ্ডের কয়লা ও বাংলার বালি বরাকরের স্রোত উজিয়ে দেদার পাচার
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি,বরাকর: শরৎকাল হলেও দফায় দফায় বৃষ্টিতে নদী এখনও বেশ খরস্রোতা। দু’পাড় ঢাকা ধবধবে সাদা কাশফুলে। পাড় ধরে মানুষের নিত্য যাতায়াত। একটু খেয়াল করলে নজরে পড়ে, একদল লোকের মাথায় বড় বস্তা। কাশবন পেরিয়ে তাঁরা নেমে পড়ছেন বরাকর নদীতে। একবুক জল ঠেলে দলবেঁধে এগিয়ে আসছেন বাংলার সীমানার দিকে। স্রোত উজিয়ে বস্তাগুলি ফেলে দিচ্ছেন এপাড়ে। বস্তায় বন্দি ‘কালো হিরে’। মানে কয়লা। বেআইনি উপায়ে সংগৃহীত। আসছে বেআইনি পথে। ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধ কয়লা পাচারে এটাই এখন নয়া করিডর। 

Advertisement

বরাকরের পাড়ে ছোট ছোট কয়লার ডিপো। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেবে বাইক বাহিনী। দলে সংখ্যাটা নেহাৎ কম নয়। কয়লার বস্তাগুলি বাইকের পিছনে চাপিয়ে যে যাঁর মতো চলে যাচ্ছেন এদিক, ওদিক। কয়লার পাশাপাশি চলছে বালি পাচারও। সেটা যাচ্ছে উলটো পথে। অর্থাৎ, ঝাড়খণ্ডের দিকে। বরাকরের মাড়োয়ারি ঘাট। সেখানে দাঁড়ালেই দেখা যায়, পিঁপড়ের সারির মতো নদীতে নামছে ট্রাক্টর। বরাকর নদী থেকে বালি তুলে তারা আবার ঝাড়খণ্ডের প্রান্তে ঢুকে পড়ছে। কেউ আবার নদী থেকে বস্তাভর্তি বালি তুলেও পাচার করছে। এভাবেই বাংলা ও ঝাড়খণ্ডকে দু’ভাগ করা বরাকর নদী অবৈধ ভাবে বালি ও কয়লা কারবারের করিডোরের রূপ নিয়েছে। 
রবিবারের বার বেলা। বরাকরের মাড়োয়ারি ঘাটে ঝুঁকি নিয়ে বস্তা মাথায় নিয়ে নদী পারাপার করতে দেখা যায় কিছু লোককে। কাছে যেতেই দেখা যায়, কয়লা পরিবহণ করা বিশেষ বাইক কয়লা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বা‌ইক আরোহী বলেন, ‘বস্তা পিছু ২০০ টাকা দিয়ে আমরা এই কয়লা কিনে নিচ্ছি। এগুলি আমরা অন্যত্র বিক্রি করছি কিছু বাড়তি টাকায়।’ ওই বাইক আরোহীর মুখেই শোনা, ঝাড়খণ্ডে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ কয়লা কারবার। যে যেভাবে পারছে, তা বাংলায় ঢোকাচ্ছে। তিনি বলছিলেন, ‘ওপারে যে বালি উঠছে, তা চাইলে এপারেও পেতে পারেন। ট্রাক্টর পিছু সাড়ে তিনহাজার টাকা পড়বে।’ অতঃপর, কয়লা ও বালি মিলিয়ে দু’ পাড়ের ‘মিলি ভগত’-এ চলছে কারবার। আর এই বেআইনি কারবারে অনুঘটকের কাজ করছে খনি অঞ্চলেও বেকার বৃদ্ধি। প্রতিদিন কয়লা খনির শ্রমিক সংখ্যা কমছে। নতুন করে খোলেনি কোনো কল-কারাখানা। তাই পুজোর আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবন বাজি রেখ নদী পথে কয়লা পাচার করছেন গরিব লোকেরা। তাঁদের কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটছে মাফিয়ারা। বাংলা-ঝাড়খণ্ডকে সংযুক্ত করেছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক। কলকাতা-দিল্লিগামী এই জাতীয় সড়কের ডুবুরডিহি চেকপোস্ট রয়েছে বরাকর নদীর পাশে। জাতীয় সড়কের দু’পক্ষের পুলিশই গাড়ির নথি দেখা থেকে তল্লাশি— সবই হচ্ছে ঘটা করে। অথচ, নদী দিয়েই চলছে কারবার। জাতীয় সড়ক ধরেও এই কয়লা পাচারের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মাফিয়ারা। বিভিন্ন জায়গার চালান তৈরি করে ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধ কয়লা লোড করে বাংলায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগে একটা সময়ে এই কয়লার কারবার নিয়ন্ত্রণ করত ‘তিন কার্তিক’। শিব-পার্বতীর বড় সন্তানের ভরসা ছেড়ে এখন মাফিয়ারা ‘কেষ্টনাম’ জপ করছে। সঠিক জায়গায় প্রণামী পড়লেই জাতীয় সড়কেও ছাড়পত্র মেলে অবৈধ কয়লা বোঝাই গাড়ি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ