


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানের একাধিক এলাকা। তাতে সম্পত্তি নষ্টের পাশাপাশি তিন ব্যক্তির প্রাণও গিয়েছে। কলকাতা থেকেই দিনরাত নজরদারি চালিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মুর্শিদাবাদের মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে সোমবার পৌঁছনোর কথা তাঁর। দুর্গত মানুষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কথা বলবেন। কারও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার এবং নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এড়ানোরই পরামর্শ তিনি দেবেন। মত ওয়াকিবহাল মহলের।
ঘটনার পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলি সপ্তাহ। তাহলে এখনও কেন দ্বন্দ্ব এড়ানোর পরামর্শ দেওয়ার কথা উঠে আসছে? রাজনীতিবিদদের মতে, মুর্শিদাবাদের ঘটনাকে হাতিয়ার করে ছাব্বিশের ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। এই মতলবে সমাজের মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজন সৃষ্টির ‘খেলায়’ নেমেছে তারা। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়। তাই তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে চার পাতার এক খোলা চিঠি লিখেছেন। তাতে বিজেপি এবং তাদের দোসর আরএসএসের বিরুদ্ধে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ডিভাইড অ্যান্ড রুল বা বিভেদের রাজনীতির খেলায় মেতে উঠেছে এই শক্তি।
রাজ্যের বিরুদ্ধে এই চক্রান্তের প্রতিবাদ এবার জানাবেন তিনি সরাসরি নবাবের মাটি থেকেই। হুঙ্কার তুলতে চলেছেন বাংলার অগ্নিকন্যা। সীমান্তবর্তী এই জেলায় বর্তমানে ‘পাকিস্তানের বন্ধু’ বাংলাদেশের বিভিন্ন এজেন্সির কার্যকলাপ নিয়ে মমতা কিছু বলেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে সকলের। আর সেই অপেক্ষাতেই জেলার সাধারণ মানুষ থেকে তৃণমূল কর্মী—সকলেই প্রহর গুনছেন। বলছেন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান।
একই সুর শোনা গিয়েছে কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকারের গলাতেও। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ফলে বিজেপির সমস্ত প্ল্যান ভেস্তে যেতে চলেছে। এটা বুঝতে পেরেই ওরা কিছু মানুষকে নিজেদের দিকে টেনে রাজনীতির চেষ্টা করছে। আবার সামশেরগঞ্জের ঘটনার উদাহরণ টেনে গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেউ কেউ ‘অনেক কিছুর’ আবদার করছে। কিন্তু এসব কোনও কাজে লাগবে না। কারণ, মানুষ জানেন মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদে উন্নয়ন সুনিশ্চিত করে জেলাকে একটি নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, একদা কংগ্রেসের গড় মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বর্তমানে ২০টি তৃণমূলের দখলে। বাকি দুটি দখলে রেখেছে বিজেপি। তবে ছাব্বিশে ‘২২-০’ করার লক্ষ্যেই মাঠে নামব আমরা। বলেন খলিলুর রহমান। এমন বিরাট ফলের আশা কেন? মূল কারণ হল এই জেলার অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং পরিষেবা প্রদানে বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপন।
মঙ্গলবার ফের একবার সুতির ছাবঘাটি কে ডি বিদ্যালয়ের মাঠে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে এটাই প্রত্যক্ষ করতে চলেছে মুর্শিদাবাদের জনতা। এখান থেকেই কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তুলে দেবেন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাও। সোমবার দুপুরে কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে বহরমপুর পৌঁছনোর কথা তাঁর। পরদিন সকালে সুতি পৌঁছনোর আগে, সামশেরগঞ্জে দুর্গত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী।