সংবাদদাতা, ঝালদা : রূপসী পুরুলিয়ার সুন্দরী কন্যা অযোধ্যা পাহাড়। পাহাড়, ঝরনা, জঙ্গল আর মেঘের অপরূপ মেলবন্ধন দেখতে বছরের বিভিন্ন সময়ে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন এখানে। নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন পর্যটকদের আনাগোনা কিছুটা কম থাকলেও নিম্নচাপ কাটতেই রবিবার সকাল থেকেই ফের জমে উঠল অযোধ্যা পাহাড়। আকাশ পরিষ্কার হতেই পর্যটকদের ভিড় দেখা গেল পাহাড়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।
পুজোর আগে শরতের নীল আকাশে পাহাড়ের গায়ে সাদা তুলোর মতো মেঘের ভেলা যেন আরও মনোরম করে তুলেছে অযোধ্যার সৌন্দর্য। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝরনা ও নদীগুলিও ফিরে পেয়েছে চঞ্চল গতি। প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করতেই এদিন পর্যটকদের ভিড় ছিল অযোধ্যা পাহাড়ের আপার ড্যাম, বামনি ফলস, মার্বেল লেক-সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে।
এদিন আবার বিশ্ব পর্যটন দিবস। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও পর্যটকদের একাংশের দাবি, পর্যটন পরিকাঠামোর আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। বর্ধমান থেকে আসা পর্যটক প্রিয়াঙ্কা দত্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে প্রথমবার এলাম। পরিবেশ খুবই সুন্দর। তবে আপার ড্যামের কাছে একটি শৌচাগার থাকলে বিশেষ করে মহিলা পর্যটকদের অনেক সুবিধা হবে।”
বাঁকুড়া থেকে আসা পর্যটক রামমোহন দে-র দাবি, পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভিউ পয়েন্টগুলির উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বামনি ঝরনা বা মার্বেল লেকের কাছে ছোট পার্ক তৈরি করা হলে পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।
নিবারণ নন্দী নামে এক পর্যটক জানান, দু’দিন আগে অযোধ্যায় এলেও নিম্নচাপের কারণে ঘোরাঘুরি করতে পারেননি। শনিবার আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় পাহাড় ঘুরে দারুণ লাগছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়লেও পর্যটকদের ফেরায় আশাবাদী ছোট ব্যবসায়ীরাও। অযোধ্যার মুখোশ বিক্রেতা তপন চন্দ্র মাঝি বলেন, বর্ষার কারণে কয়েকদিন বিক্রিবাটা কম ছিল। পুজোর পর থেকে হোলি পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় বাড়ে, তখন ব্যবসাও ভালো হয়। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ছোট পার্ক, ঝরনায় নামার সিঁড়ি মেরামত, উন্নত পরিকাঠামো এবং রোপওয়ের মতো ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাঁর দাবি।
পুরুলিয়ার পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন সরকারের তরফে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটন পরিকাঠামো আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।