উজ্জয়িনী: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলার প্রস্তুতি হিসাবে রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তারই অঙ্গ হিসাবে শাহি মসজিদের একটা অংশ ভাঙার প্রস্তাবিত অভিযান ঘিরে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী। সকাল থেকে মসজিদের কাছে সমবেত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদীদের ভিড়ে ছিলেন মহিলারাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পালটা লাঠিচার্জ করেছে ও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফ।
কান্থাল ক্রসিং থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তা চওড়ায় বাড়িয়ে ১৫ ফুট করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। সেই সূত্রেই ভাঙা পড়ার কথা বেশ কিছু কাঠামো। সেই তালিকায় রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন শাহি মসজিদের একটা অংশও। এতে আপত্তি জানিয়ে দায়ের একটি মামলার এদিন শুনানি হওয়ার কথা ছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে। তার মধ্যেই এদিন সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উজ্জয়িনী। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশাসনের প্রস্তাবিত অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি ও গুজব ছড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ১০ জনকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন পাঁচ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারও। সংঘর্ষের জেরে একাধিক পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আড়াই হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মসজিদের অংশ ভাঙার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাস্তা চওড়া করার কাজে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন এবং স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অযথা জমায়েত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার আরজি জানিয়েছেন উজ্জয়িনী শহরের কাজি খালিকুর রহমান। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, গতকাল রাতেই মসজিদ সংক্রান্ত ইস্যুটির মীমাংসা হয়েছে। তার ভিত্তিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের কাজ চালাচ্ছেন। সুতরাং, কোনো গুজবে কান দেবেন না। গুজবের কারণে বাড়ি থেকে বের হবেন না। শান্তি বজায় রাখুন এবং বাড়িতেই থাকুন।