


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের বন্দিদের কাছে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেওয়ার পিছনে সক্রিয় রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। জেল সুপার থেকে কারারক্ষীদের একাংশ সেই সিন্ডিকেটে জড়িত বলে খবর। তাঁদের অনেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তদন্তভার হাতে নিয়ে প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করছে সিআইডি। তারা জেনেছে, অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা মেটাত ওই সিন্ডিকেটকে। তাই ইতিমধ্যে সাসপেন্ড হওয়া প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার নবীন কুজুর সহ একাধিক কারাকর্মীর ফোন এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে।
পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযানে কারা কর্তৃপক্ষ এই জেলের ভিতর থেকে ২৩টি মোবাইল উদ্ধার করে। সেগুলির মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোনও রয়েছে। এরপরই সাসপেন্ড করা হয় জেলের সুপার সহ দু’জনকে। মুখ্যমন্ত্রী সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। কীভাবে জেলের মধ্যে মোবাইল ঢুকল, প্রথমে সিআইডি সেটাই জানার চেষ্টা করছে। প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পারছে, তৃণমূল জমানায় জেলে কোনো নিয়মশৃঙ্খলা ছিল না। কারারক্ষীদের একাংশ ও জেল সুপার অসাধু কারবারে জড়িয়ে পড়েন। তৃণমূলের নেতারা ফোনে তাঁদের নানা নির্দেশ দিতেন। সেভাবেই বন্দি থাকা পূর্বতন শাসক দলের কোনো নেতার কাছে মোবাইল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ আসত। প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার সেল থেকে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টির আঁচ পাওয়া যায়। এর বাইরে কারারক্ষীদের একাংশও বিভিন্ন সময় বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে জানতে পারছেন তদন্তকারীরা। সবটাই জানতেন জেল সুপার। বিভিন্ন সামগ্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোন আসত বাইরে থেকে। অনেক সময় কারারক্ষীরা নিজেদের ফোন ব্যবহার করতে দিতেন বন্দিদের। সবকিছুর পিছনেই একটি চক্র সক্রিয় ছিল বলে জানা যাচ্ছে। বিগত শাসক শিবিরের সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাননি। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, মোবাইল ব্যবহারের জন্য নেওয়া হত টাকাও। সিন্ডিকেটের মাথারা নির্দিষ্ট ই-ওয়ালেট নম্বর দিয়ে দিতেন। সেখানে টাকা জমা করতেন বন্দির বাড়ির লোকজন। তাই তদন্তকারীরা এখন সিন্ডিকেটের মাথাদের খুঁজে তাদের ই-ওয়ালেটগুলির হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করবেন।