Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিত্তরঞ্জনে বধূ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়, খুনির রক্তমাখা হাতের ছাপ মিলল ফরেন্সিকে

চিত্তরঞ্জনে বধূ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়, খুনির রক্তমাখা হাতের ছাপ মিলল ফরেন্সিকে
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: চিত্তরঞ্জনে গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। আততায়ীর রক্তমাখা হাতে ছাপ মিলল ফরেন্সিক রিপোর্টে। খুনের পর রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝে হাত দিয়েই পরিস্কার করেছিল সে।  ফলে, তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা এই খুনের পিছনে ওই বধূর নিকট কোনও পরিজন জড়িয়ে থাকতে পারে। তবে, ঘটনার পর ছ’দিন পেরিয়ে গেলেও আততায়ী অধরা। এনিয়ে চিত্তরঞ্জনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।   

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে সঞ্চিতা চৌধুরী নামে ওই বধূকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তিনি রেলকর্মীর স্ত্রী। রেল কোয়ার্টারেই থাকতেন। গলা ও বুকে ধারালে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তাতে উঠে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনাস্থল থেকে আততায়ীর রক্তমাখা হাতের ছাপ দেখতে পেয়েছেন তাঁরা। মেঝে থেকে রক্তের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। এটা জানার পরেই বিশেষজ্ঞরা স্কেচ তৈরি করে বোঝার চেষ্টা করছেন, কীভাবে খুন করা হয়েছিল ওই বধূকে, তিনি কতটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। 
আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পুলিস ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের আনছে। বধূর পরিবার ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মুখে কুলুপ। কেউই খুনের ঘটনা নিয়ে রা কাড়ছেন না। স্বাভাবিকভাবেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে পুলিস। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। তবে, প্রাথমিকভাবে তাঁদের কাছে এটা স্পষ্ট এই খুনের নেপথ্যে সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয় বধূর অতি পরিচিতরাও। ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, ‘খুনের ঘটনার তদন্ত জোর কদমে চলছে। আশা করা যায়, দ্রুত আমরা আততায়ীকে গ্রেপ্তার করতে সফল হব।’
বৃহস্পতিবার রাতে বধূর স্বামীর মাধ্যমেই পুলিস প্রথম খুনের বিষয়টি জানতে পারে। তাঁর দাবি ছিল, ডিউটি করে ফেরার পর তিনি স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় কোয়ার্টারের বারান্দায় দেখতে পান। ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল এলাকায় থাকা কোয়ার্টারে অত্যন্ত চুপিসারে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বহিরাগত কোনও দুষ্কৃতীর পক্ষে একাজ দুঃসাধ্য বলেই অনেকে মনে করছেন। সেই সূত্র ধরে তদন্তকারীরাও আপাতত নিশ্চিত, বধূর কোনও কাছের লোক এ কাজ ঘটিয়ে থাকতে পারে। 
চিত্তরঞ্জনে খুনের ঘটনা প্রথম নয়। সাম্প্রতিক অতীতে এখানে খুন হয়েছেন রেলকর্মী থেকে ঠিকাদার। গাড়ির ভেতরে খুন হয়েছিলেন এক রেলকর্মী। সেখানে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। এক ব্য‌বসায়ীকে নৃশংসভাবে শ্যুটআউট করা হয়। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব সামনে এসেছিল। সবক’টি ঘটনার পুলিস কিনারা করেছে। এখন দেখার সঞ্চিতা হত্যার রহস্য পুলিস কীভাবে ভেদ করে।

সম্পর্কিত সংবাদ