Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠে প্লাস্টিক-বর্জ্যে দূষিত চিলার মাঠ যেন ডাম্পিং গ্রাউন্ড

তারাপীঠের জঞ্জাল অপসারণ নিয়ে দিশেহারা অবস্থা প্রশাসন ও টিআরডিএর

তারাপীঠে প্লাস্টিক-বর্জ্যে দূষিত চিলার মাঠ যেন ডাম্পিং গ্রাউন্ড
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের জঞ্জাল অপসারণ নিয়ে দিশেহারা অবস্থা প্রশাসন ও টিআরডিএর। উপযুক্ত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের অভাবে এবার তীর্থভূমির বর্জ্য ফেলার ঠিকানা হয়ে উঠেছে একটি খেলার মাঠ। যা তারাপীঠ মন্দির কমিটির নিজস্ব ‘চিলার মাঠ’ নামে পরিচিত। এর ফলে সেই মাঠে বন্ধ হয়েছে খেলাধুলো। বিপন্ন চিলা কাঁদরের জীববৈচিত্র্য এবং কৌশিকী অমাবস্যার পর থেকে ক্রমাগত নোংরা ফেলার জায়গা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একেবারে প্রকাশ্যে আসছে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তারাপীঠ এলাকার একমাত্র পরিচিত খেলার জায়গা চিলার মাঠ। পুণ্যার্থীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, থার্মোকল, ব্যবহৃত শালপাতার থালা-বাটি, বোতলের পাশাপাশি এলাকার শয়ে শয়ে লজ ও রেস্তোরাঁর টন টন বর্জ্য প্রতিদিন ভ্যানে করে ওই মাঠে এনে ফেলা হয়। পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে কুকুর ও পাখির বিচরণের কারণে নোংরা ছড়াচ্ছে মাঠজুড়ে। বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে যুবসমাজ যখন মোবাইলমুখী, তখন যাঁরা এই মাঠে নিয়মিত খেলাধুলো করতেন, বিকল্প কোনো মাঠ না থাকায় তাঁরাও বিপাকে পড়েছেন। মাঠের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ‘‘চিলা কাঁদর’। মাঠের বর্জ্য গড়িয়ে পড়ে কাঁদরের জল দূষিত করছে। নষ্ট হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। একই সঙ্গে আবর্জনা জমে বুজে আসছে কাঁদরের প্রবাহ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামীতে ভারী বৃষ্টি  হলে জল নিকাশি ব্যবস্থাই অবরুদ্ধ হয়ে গোটা এলাকা জলমগ্ন হতে পারে। উল্লেখ্য, কৌশিকী অমাবস্যার আগে পর্যন্ত তারাপীঠ ঢোকার মুখে সোনার বাংলা মোড় সংলগ্ন প্রধান সড়কের ধারে যাবতীয় আবর্জনা ফেলা হত। কৌশিকী অমাবস্যার পর পুণ্যার্থীদের ঢল ও স্থানীয় লজ-রেস্তোরাঁর টন টন বর্জ্যে গোটা সিদ্ধপীঠ ঢেকে গেলে, প্রশাসন চিলা কাঁদরের পাড়কে সাময়িক জঞ্জাল ফেলার কেন্দ্র বানায়। খোলা আকাশের নীচে ওভাবে জমে থাকা সেই বিষাক্ত বর্জ্য পশুপাখির মাধ্যমে সরাসরি পবিত্র দ্বারকা নদে মিশছিল। খেলার মাঠে এভাবে আবর্জনা ফেলা নিয়ে টিআরডিএর ভূমিকা ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, মাঠে নামা যাচ্ছে না। পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে দম আটকে আসছে। এভাবে খেলার মাঠকে যদি জঞ্জাল ফেলার জায়গা বানিয়ে দেওয়া হয়, তবে আমরা খেলতে যাব কোথায়? মন্দির কমিটির সভাপতি তথা টিআরডিএর সদস্য নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত টিআরডিএ বৈঠকেই মাঠে আবর্জনা না ফেলার কথা বলা হয়েছিল। ডাম্পিং গ্রাউন্ড না করা গেলে তারাপীঠের এই সমস্যা মিটবে না। জেলাশাসক ধবল জৈনের দাবি, মন্দির কমিটি অনুমতি দিয়েছে বলেই মাঠের একপাশে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কিন্তু জেলাশাসকের এই দাবি উড়িয়ে নিখিলবাবুর পাল্টা প্রশ্ন, খেলার মাঠে আবর্জনা ফেলতে কেউ অনুমতি দেয়?

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ