নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভুয়ো চিকিৎসকের অপারেশনে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বর্ধমানের নার্সিংহোমের মালিক আনিসুর রহমান এবং সুরজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাদেরকে কলকাতার নিউটাউন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন আগেই ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হকের অপারেশনে চার বছরের শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় নার্সিংহোমের মালিক সহ ভুয়ো ডাক্তারের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানার অভিযোগ করেন পরিবারের লোকজন ।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হকের হাতে চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয়। ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচারের পরই শিশুটির মৃত্যু হয়। অজ্ঞান করার চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর বিরুদ্ধেও স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যদপ্তর সাইদুলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা ছাড়া প্রশাসনের তরফে আর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি আরো অভিযোগ, এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করার পরই হুমকি ফোন আসে মৃত শিশুর মা শিল্পাদেবীর কাছে। তাঁকে ফোন করে বলা হয়েছিল, এআই দিয়ে ছবি এডিট করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। মন্তেশ্বর থানায় এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও করেছিলেন তিনি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পাঁচজন ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে মেডিকেল কাউন্সিলে জমা পড়া সমস্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এখনও এলাকায় একাধিক ভুয়ো চিকিৎসক রমরমিয়ে প্র্যাকটিস করে চলেছেন। তাঁদের অনেকেই মাধ্যমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি বলে অভিযোগ। দালালদের মাধ্যমে তাঁদের কাছে রোগী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এক শ্রেণির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভও এই ভুয়ো চিকিৎসকদের থেকে সুবিধা নিচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, ওই চিকিৎসকদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ লিখে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা।