নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদিবাসী সমাজের জন্য যে উন্নয়ন রাজ্য সরকার করেছে, তা আগামী দিনে সুদূর প্রসারিত হবে। বাংলার সকল আদিবাসী মানুষের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে আমরা বদ্ধপরিকর থাকব এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেব। স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ব্যাপারে আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত সাংসদ ও বিধায়কের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সদ্য রাজ্যজুড়ে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন করার সূত্র ধরেই এই চিঠি। সকলকে ‘জয় জোহার’ জানিয়েছেন মমতা। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, বাংলায় গত ১৪ বছরে আদিবাসী উন্নয়নে বহু কাজ করেছি। তাঁদের আর্থিক উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই বিষয়গুলিকে যেমন আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, তেমনই আদিবাসী সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারেও আমরা অত্যন্ত যত্নশীল থেকেছি। আমাদের আমলে পৃথক আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর গঠন করা হয়েছে। দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ ২০১১ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে সাতগুণ!
বিশেষত রাজ্যে আদিবাসীদের জমি হস্তান্তর করা যাবে না। তার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সবসময় নজর রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তিন লক্ষাধিক আদিবাসী মানুষকে প্রতিমাসে পেনশন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ লক্ষ মানুষকে। পাট্টা প্রদান এবং কেন্দুপাতা সংগ্রহকারীদের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। আদিবাসী উন্নয়নে আটটি উন্নয়নমূলক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে ‘সারি’ এবং ‘সারনা’ ধর্মের স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রেকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। এই ব্যাপারে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হয়েছে। তবু বিষয়টিতে কেন্দ্র উদাসীন। অভিযোগ রাজ্যের।
রাজনৈতিক দিক থেকে মমতার এই চিঠি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কেননা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিতে দলিত-আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নির্যাতন চলছে। সেখানে বাংলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন কতটা সুরক্ষিত আছেন, সেটাই বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে মমতার চিঠিতে। তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধি বলছেন, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে মমতার চিঠিতে। সেটা আগামী দিনে প্রচারের কাজে লাগবে। এদিকে আজ, সোমবার বিকেল ৫টায় নবান্নে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাইবস অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে ওই বৈঠকে।