কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমাকে রেল মানচিত্রে ঢোকাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭ তম জন্মতিথি পালন উপলক্ষে বুধবার তাঁর জন্মভিটে বীরসিংহে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে ঘাটাল মহকুমার উন্নয়নে গুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তার মধ্যে বীরসিংহের সার্বিক বিকাশ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুততিতে শুরু সহ একাধিক বিষয় রয়েছে। তবে, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে ঘোষণাটি মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা হল সেই ঘাটাল মহকুমাকে রেল মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে থমকে থাকা পাঁশকুড়া-ঘাটাল-ইড়পালা রেলপথের জমি সংক্রান্ত জট দ্রুত মেটাতে জেলা প্রশাসন ও ভূমিদপ্তরকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় খুশি ঘাটালবাসী। বেশ কয়েক বছর ধরেই পাঁশকুড়া-ইড়পালা ভায়া ঘাটাল-বীরসিংহ রেল পথের দাবি তুলে আসছেন তাঁরা।
এদিন বীরসিংহের স্মৃতিমন্দিরে বিদ্যাসাগরের পিতা-মাতার আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর বালিকা বিবাহ রুখে দেওয়া তিন স্কুলছাত্রীকে সংবর্ধনা দেন তিনি। তারপরই বিদ্যাসাগর ভগবতী বিদ্যালয়ের মাঠে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘শুধু লম্বা ভাষণ নয়, মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে তিনি অনুমোদনপত্র হাতে নিয়েই এলাকায় পা রেখেছেন। বীরসিংহকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বীরসিংহে বহিরাগত পর্যটক, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের রাত্রিবাসের জন্য বড় মাপের আবাসিক হস্টেল এবং বিদ্যাসাগরকে নিয়ে যাঁরা গবেষণা করবেন তাঁদের জন্য কটেজ তৈরি করবে পর্যটন দপ্তর। এই বিষয়ে জেলাশাসককে জমি চিহ্নিতকরণের নির্দেশ দিয়ে পর্যটন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকে দ্রুত রূপায়ণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বীরসিংহ এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে চওড়া রাস্তাঘাট, আলো ও সৌন্দর্যায়ন সহ একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘাটাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদের কার্যালয় সংলগ্ন মার্কেট কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি হল নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ কোটি টাকা।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়েও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুজোর পরই মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুততার সঙ্গে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের যৌথ ৫০-৫০ শতাংশ ব্যয়ের ভিত্তিতে কাজ এগচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর থেকেও বরাদ্দ মিলেছে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি জানান, চলতি বছরেই এই প্রকল্পের জন্য ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। আগামী বর্ষার আগেই যাতে বিস্তীর্ণ কাজ গুটিয়ে ফেলা যায়, সে জন্য ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট ও দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্তকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘাটালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার রূপরেখাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্লাবিত অঞ্চলের সমস্ত মাটির বাড়ি, টালি, অ্যাসবেস্টস বা খড়ের চালের কাঁচা বাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে জেলাশাসক ও বিডিওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে বাড়ি মেরামতের জন্য দ্রুত ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। ধান, পান ও সবজির ক্ষয়ক্ষতিতে সহায়তা প্রদানে বিশেষ শিবির করে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।