Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন মুখ্যমন্ত্রীর, জলে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু এখনও বন্ধ মহকুমার শতাধিক স্কুল

ঘাটাল মহকুমার বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে ঘাটাল ও খড়ার শহর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন

ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন মুখ্যমন্ত্রীর, জলে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু  এখনও বন্ধ মহকুমার শতাধিক স্কুল
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমার বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে ঘাটাল ও খড়ার শহর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর এলাকায় জমা জলে ডুবে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম রুদ্রাণী চৌধুরী(৩)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির সামনে জমে থাকা বন্যার জলে কোনোভাবে পড়ে গিয়ে সে তলিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর তার দেহ উদ্ধার হয়। এদিন মেদিনীপুরের মোহনপুর থেকে আকাশপথে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি বীরসিংহে বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানে গিয়ে বন্যাদুর্গতদের বাড়ির জন্য একটি প্রজেক্টও ঘোষণা করেন। 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্লাবিত এলাকার সমস্ত মাটির ও কাঁচা বাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য জেলাশাসক এবং বিডিওদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে বাড়ি মেরামতের জন্য দ্রুত ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে জলে ডুবে নষ্ট হওয়া ধান, পান ও সব্জির জন্য বিশেষ শিবির খুলে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ মেটানোর নির্দেশ দেন তিনি। সেচ ও জলপথ দপ্তর সূত্রে খবর, মহকুমার নদীগুলিতে জলস্তর কমতে শুরু করলেও গতি সন্তোষজনক নয়। দফতরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানান, রূপনারায়ণ নদের জলের চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্লাবিত অঞ্চলগুলি থেকে দ্রুত জল নামার সম্ভাবনা কম। ফলে সার্বিক দুর্ভোগ এখনই মিটছে না। আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
টানা বৃষ্টি ও নদীর উপচে পড়া জলে ঘাটাল পুরসভার ১২টি ওয়ার্ড এবং খড়ার পুরসভার চারটি ওয়ার্ড এখনও জলবন্দি। পাশাপাশি ঘাটাল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং দাসপুর-১ ব্লকের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু এলাকা জলের তলায় রয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মাটির ও কাঁচাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার কারণে মহকুমার শতাধিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় নদীর জল আর বাড়েনি। তবে জল জমে থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলমগ্ন এলাকাগুলিতে প্রচুর নৌকা নামানো হয়েছে। অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার, ত্রিপল ও পানীয় জলের পাউচ বিলি চলছে। স্থানীয় বিধায়ক শীতল কপাট জানিয়েছেন, সমস্ত এলাকাতেই কড়া নজরদারি চলছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  আকাশপথে ঘটালের বন্যা পরিস্থিতি ঘুরে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ