শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কাগুজে বা ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে তার মাধ্যমে বিদেশে ৮২৩ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এক চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ)-এর বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেছে খোদ আয়কর দপ্তর। রীতিমতো সিন্ডিকেট গড়ে এই টাকা মধ্যপ্রাচ্যে চালান করা হয়েছে। আরও অভিযোগ, কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সিএ’র যে সার্টিফিকেটের দরকার হয়, এক্ষেত্রে সেটি ইস্যু করেছেন অভিযুক্ত নিজেই। বিষয়টি নজরে আসার পর পীযুষ কর্মকার নামে ওই সিএ’র বিরুদ্ধে কড়েয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আয়কর দপ্তর। তার ভিত্তিতে পুলিশ প্রতারণা, জাল সার্টিফিকেট তৈরিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজুর পর তদন্ত শুরু করেছে।
কীভাবে সামনে এল বিষয়টি? জানা গিয়েছে, তিনটি কোম্পানির রিটার্ন নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় আয়কর দপ্তর কিছুদিন আগে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করে। সেখানে দেখা যায়, এই তিন কোম্পানিরই অফিস গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের নির্দিষ্ট একটি ঠিকানায়। ব্যবসায় তারা বিপুল পরিমাণ লাভ করেছে। সেই টাকার প্রায় পুরোটাই দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়েছে সেই টাকা। আয়কর দপ্তরের কর্তারা ওই অফিসে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, এগুলি আসলে কাগুজে কোম্পানি। পুরো ব্যবসাটাই হয়েছে স্রেফ কাগজে-কলমে। আদতে এই কোম্পানিগুলির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮২৩.৩৪ কোটি টাকা চলে গিয়েছে বাইরে। ওই কোম্পানি তৈরি, ব্যালান্স শিট ও টাকা বিদেশে পাঠানোর সার্টিফিকেটে পীযুষ কর্মকার নামে কড়েয়া এলাকার এক সিএ’র নাম ছিল। চলতি মাসের ১৮ তারিখ তাঁর অফিসে তদন্তে যান আয়কর অফিসাররা। সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিদেশে টাকা পাঠানোর সার্টিফিকেট। নথি পরীক্ষায় ধরা পড়ে, যেসব কোম্পানির মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে, সেগুলির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। কোনো কিছু যাচাই না করেই ওই সিএ ভুয়ো সার্টিফিকেট ইস্যু করে গিয়েছেন। একইসঙ্গে বিদেশে টাকা পাচারও হয়েছে তাঁর মাধ্যমে। পীযুষকে জিজ্ঞাসাবাদে আয়কর দপ্তরের অফিসাররা আরও জানতে পারেন, তিনি নথি যাচাই না করেই এই সার্টিফিকেট ইস্যু করেছেন টাকার বিনিময়ে। শুধু তাই নয়, ওই সিএ কাগুজে কোম্পানিগুলি খুলতে সবরকম সাহায্য করেছেন। পরিচারক বা গাড়ির চালককে কোম্পানির ডিরেক্টর হিসাবে দেখানো হয়। অভিযোগ, এভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ কালো টাকা বিদেশে পাঠাতে সাহায্য করেছেন সিএ। তবে পীযুষবাবুর আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর মক্কেল বিশ্বাসের জায়গা থেকে নথি যাচাই না করে সার্টিফিকেট দিয়েছেন ঠিকই, তবে তিনি টাকা পাচারে কোনোভাবে জড়িত নন।