সংবাদদাতা, ঝালদা: পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির চড়িদা। ‘মুখোশ গ্রাম’ হিসেবেই যার পরিচিতি। এই গ্রামের পথে হাঁটলেই চোখে পড়ে সারি সারি রঙিন ছৌ মুখোশ। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির মুখে ফুটে ওঠে দেব, দেবী থেকে শুরু করে ছৌ নৃত্যের নানা পৌরানিক চরিত্র। সারা বছর মুখোশ তৈরির ব্যস্ততা থাকলেও দুর্গাপুজোর মরশুমে চড়িদার অনেক শিল্পীর ঠিকানা বদলে যায়। পুজোর প্রতিমা গড়তে তাঁরা বাইরের রাজ্যে পাড়ি দেন। চড়িদার প্রায় ৫০ বছরের মুখোশ শিল্পী ভীম সূত্রধরও তাঁদেরই একজন। দুর্গাপুজোর প্রতিমা গড়ার কাজে দীর্ঘ ২৫–৩০ বছর ধরে রাজ্যের বাইরে পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। এবছর তাঁর ঠিকানা মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলা। সেখানে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে তৈরি করছেন দুর্গাপ্রতিমা। সব মিলিয়ে এবছর প্রায় ৪০টি প্রতিমা গড়ার কাজ নিয়েছেন ভীম সূত্রধর। শিল্পীর কথায়, মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলার বিভিন্ন গ্রামে আলাদা আলাদা পুজো হয়। ফলে দুর্গাপ্রতিমার চাহিদাও এখানে যথেষ্ট। মহালয়ার দিন প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদে প্রায় দু’মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় কাজ। কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ আনিয়ে সিধি জেলায় শুরু হয় প্রতিমা গড়ার কাজ। পুজোর আর ক’দিন বাকি থাকায় এখন রং করার ব্যস্ততা চরমে। শুধু ভীম নন, চড়িদার আরও বহু শিল্পী এই সময়ে ছৌ মুখোশের কাজ কিছুটা সরিয়ে রেখে দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ভীমের সঙ্গে প্রায় ২০ জনের একটি দলও বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে প্রতিমা তৈরির কাজে রয়েছেন। বছরের এই সময়ে বাইরে গিয়ে কাজ করাটা তাঁদের কাছে অনেকটা রীতির মতোই হয়ে উঠেছে। চড়িদার আরএক শিল্পী মৃত্যুঞ্জয় সূত্রধর এ বছর গিয়েছেন ছত্তিশগড়ে। সেখানেও চলছে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। পুজো এলেই তাই চড়িদার অনেক ঘরে ব্যস্ততা থাকলেও সেই ব্যস্ততা শুধু গ্রামের মাটিতে আটকে থাকে না। মাটির গন্ধ, শিল্পীর হাতের নিপুণতা আর পুরুলিয়ার ঐতিহ্য পেরিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে দূর রাজ্যের পুজোমণ্ডপেও।



