নয়াদিল্লি: ইউপিআইতে দু’হাজার টাকার উপর লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর চার্জ চালুর কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ১৫ অক্টোবর থেকে এই মাশুল কার্যকর হওয়ার কথা। এই মাশুল রদের আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু ইউপিআই লেনদেনে মাশুল সংক্রান্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল না শীর্ষ আদালত। যদিও সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ বিষয়টিতে কেন্দ্রের কাছ থেকে বিস্তারিত হলফনামা চেয়েছে।
ইউপিআইতে মাশুল রদের আরজি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী অঞ্জন দত্ত। এব্যাপারে ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর জারি কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি করেছিলেন তিনি। যুক্তি হিসাবে অঞ্জন দত্তের আইনজীবী বলেন, ইউপিআই চালুর পর থেকে কালো টাকার ব্যবহারের উপর অনেকটা লাগাম টানা গিয়েছে। তাছাড়া, চার্জ বসানো হলে ডিজিটাল লেনদেনে মানুষ উৎসাহ হারাবেন। যদিও কেন্দ্রের পক্ষে এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এন ভেঙ্কটরমণ। তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে এটি চালু হচ্ছে। ৯৬ শতাংশ গ্রাহককেই এই
চার্জ দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এমডিআর ৫ টাকায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সর্বাধিক এমডিআরেরও সংস্থান রয়েছে।
তবে এই চার্জের প্রশাসনিক এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৪০ কোটি মানুষ প্রভাবিত হবেন। তাই এর আইনি এবং পদ্ধতিগত অবস্থান নির্ণয় করা জরুরি। সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এন ভেঙ্কটরমণ তখন জানান, এটি কোনো ফি বা ট্যাক্স নয়। তাঁর কথায়, ‘এই চার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থের এক পয়সাও কেন্দ্রীয় সরকার নেবে না। ব্যাংক এবং পেমেন্টস পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আর্থিক লেনদেন বাবদ পরিকাঠামোগত অর্থের একটা অংশ নেওয়া হচ্ছে। এই অর্থ থেকে কয়েক যোজন দূরে সরকার।’ এরপরই কেন্দ্রের পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই), ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়াকে (এনপিসিআই) এই নিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের মতামত জানাতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।