সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরেও রঘুনাথপুর থানার বেড়োর চণ্ডী পাহাড় অবাধে কাটা হচ্ছে। সেই পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করতে রবিবার এলাকার বাসিন্দা সহ বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন পথে নামে। এদিন বেড়ো গ্রাম থেকে চণ্ডী পাহাড় পাদদেশ পর্যন্ত মিছিল করা হয়। মিছিলে আবাল, বৃদ্ধ-বনিতা যোগ দেন। ধামসা বাদল নিয়ে মিছিল করা হয়। মিছিল শেষে পাহাড়ের পাদদেশে একটি মাঠে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি করা হয়। সেখানে ছ’ঘণ্টা ধরে কর্মসূচি চলে। কর্মসূচিতে প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও(দক্ষিণবঙ্গ) সংগঠনের আহ্বায়ক রাজেন টুডু, বেড়ো পঞ্চায়েত প্রধান টিকা বাউরি সহ পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ রয়েছে কোনোভাবে পাহাড় কাটা, জঙ্গল ধ্বংস করা যাবে না। বেড়োর পাহাড় কাটা বন্ধ করা হয়েছিল। তারপরেও কীভাবে ফের পাহাড় কাটা চলছে? তাতে সকলেই হতবাক! বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়োতে ঐতিহ্যবাহী চণ্ডী পাহাড় রয়েছে। এই পাহাড়ে বহু বাংলা সিনেমা ও সিরিয়ালের শুটিং হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। অনেকেই এই পাহাড়ে ট্রেকিং করতে আসেন।
প্রসঙ্গত, বছর কয়েক আগে তৃণমূল সরকারের সময় রাজ্য শিল্প নিগমের তত্ত্বাবধানে একটি সংস্থাকে এই পাহাড় কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই সংস্থা পাহাড় কেটে গ্রানাইট ও ব্ল্যাক স্টোন(কালো পাথর) উত্তোলন করছে। সেই সময় পাহাড় বাঁচানোর জন্য আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে এলাকার মানুষকে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছিল। রাজ্যে পালা বদলের পরেই আবার এলাকার মানুষ আবার পাহাড় বাঁচাতে আন্দোলনে নেমেছে।
বর্তমানে, প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ না করে এবং অনুমতি ছাড়পত্র জনসমক্ষে প্রকাশ না করেই পাহাড় ধ্বংসের কাজ চলছে। যা প্রকৃতির পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে এলাকার বাসিন্দা ও পরিবেশ প্রেমীরা অভিযোগ তুলছেন। অভিযোগ, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সরব হলেও বেড়োর কাজললতায় অনবরত খনন কাজ চলছে। সরকারের এই দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা মিঠুন বাউরি, অলোক মাজি বলেন পাহাড়ের নাম বদলে প্রকৃতি ধ্বংসের অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। চণ্ডী পাহাড়ের প্রতিটি টিলা, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি জীব প্রাকৃতিক সম্পদ। এই পাহাড় পুরুলিয়ার ফুসফুস। উন্নয়নের নামে পাহাড় ধ্বংস নয়, পাহাড় রক্ষাই হোক সরকারের অঙ্গীকার। নাম বদলের খেলা বন্ধ করে অবিলম্বে খনন কাজ বন্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে পুরো প্রকল্প বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে।
রাজেনবাবু বলেন, বর্তমানে মুনাফালোভীরা পুরুলিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে হাত বাড়িয়েছে। কোনোভাবেই তা মেনে নেওয়া যাবে না। বেড়ো পাহাড় বাঁচাতে লাগাতার আন্দোলন চলবে। -নিজস্ব চিত্র