Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১০ অক্টোবরের মধ্যে ট্যাক্স না মেটালে বর্ধমানে দোকানের ঝাঁপ বন্ধের হুঁশিয়ারি চেয়ারম্যানের, লাইন দিয়ে লস্যি বিক্রি হলেও লক্ষ লক্ষ টাকার ট্যাক্স বাকি

কার্জনগেটের পাশে লস্যির দোকানে প্রতিদিনই লম্বা লাইন পড়ে যায়। ক্রেতাদের লস্যি দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্মীদের। অথচ সেই দোকানই পুরসভাকে দীর্ঘদিন ট্যাক্স দেয়নি

১০ অক্টোবরের মধ্যে ট্যাক্স না মেটালে বর্ধমানে দোকানের ঝাঁপ বন্ধের হুঁশিয়ারি চেয়ারম্যানের, লাইন দিয়ে লস্যি বিক্রি হলেও লক্ষ লক্ষ টাকার ট্যাক্স বাকি
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কার্জনগেটের পাশে লস্যির দোকানে প্রতিদিনই লম্বা লাইন পড়ে যায়। ক্রেতাদের লস্যি দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্মীদের। অথচ সেই দোকানই পুরসভাকে দীর্ঘদিন ট্যাক্স দেয়নি। এদিন পুরসভার চেয়াম্যান পরেশ সরকার দোকানে গিয়ে ১০ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া কয়েক লক্ষ টাকা বিল মেটানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তা না হলে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে, শুধু ওই লস্যির দোকানদারই নন, বেশ কিছু হোটেল, রেস্টুরেন্ট মালিক দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স দেননি। বারবার নোটিস পাঠানো হলেও হেলদোল নেই। তাঁদের অনেকেই এক সময় তৃণমূল নেতাদের ছত্রছায়ায় ছিলেন। এখন আবার তাঁরাই বলছেন, বিজেপি’র সঙ্গে তাঁদের নাকি পুরানো সম্পর্ক। তাই ট্যাক্স না দিলেও চলবে। বকেয়া টাক্স আদায় না হওয়ায় আর্থিক সংকটে ভোগা পুরসভা সময়ে কর্মীদের বেতন এবং অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন দিতে পারছে না।

Advertisement

এদিন ট্যাক্স আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান পরেশ সরকার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দোকানে যান। তিনি বলেন, ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। বহু আবাসনেরও ট্যাক্স বাকি রয়েছে। রেস্টুরেন্ট বা দোকানগুলি লাভ করছে। অথচ ট্যাক্স দিচ্ছে না। বহুবার তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। একটি লস্যির দোকানে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ট্যাক্স বিল বাকি রয়েছে। হোটেল বা দোকানের আবর্জনা পুরসভা পরিষ্কার করছে। তাদের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অথচ তারা ট্যাক্স না দিয়ে ব্যবসা করছে। কংগ্রেস নেতা গৌরব সরকার বলেন, গোলাপবাগের দিকে একটি আবাসনের হোল্ডিং নেই। ওই আবাসনটি কীভাবে তৈরির অনুমতি দেওয়া হল, তা তদন্ত হওয়া দরকার। ট্যাক্স আদায়ের জন্য পুরসভা কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণেই অনেকে ট্যাক্স দিচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বহু অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে পুরসভার আয় বাড়ত। সেটাও তারা করেননি। আসলে যারা ট্যাক্স দিচ্ছে না, তাদের মাথার উপর এতদিন তৃণমূল নেতাদের হাত ছিল। এখন আবার তারা বিজেপির ছত্রছায়ায় চলে গিয়েছে। বিজেপি নেতা অনীশ দাস বলেন, ট্যাক্স দিতেই হবে। পুরসভা কেন এতদিন ট্যাক্স আদায় করেনি, সেটাই বুঝতে পারছি না। এক আধিকারিক বলেন, বকেয়া ট্যাক্স আদায় হলে পুরসভার আর্থিক অবস্থা বদলে যাবে। প্রমোটার বা ব্যবসায়ীদের টাকার অভাব নেই। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ওই ব্যবসায়ীদের অনেকবার ভালভাবে বলা হয়েছে। তাদের অনেকে নিজেদের সমাজসেবী বলে পরিচয় দেয়। অথচ পুরসভাকে ট্যাক্স দেয় না। শহরে ব্যবসা বা বাস করতে হলে ট্যাক্স দিতেই হবে। তা না হলে পুরসভা কড়া পদক্ষেপ নেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ