


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বস্ত্রশিল্প থেকে সিমেন্ট। স্টিল অথবা গাড়ি। দেশের কোর সেক্টরসহ একঝাঁক শিল্প এলপিজি সংকটে রীতিমতো খাদের কিনারায়। রাজ্যে রাজ্যে এই সেক্টরগুলির কারখানা, ইউনিট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক মন্দার হাতছানি। জ্বালানি সংকট যে ভারতের উপর বড়ো বিরূপ প্রভাব ফেলতে চলেছে, সেটা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বীকার করেছেন। আর্থিক মন্দা থেকে রক্ষা পেতে মরিয়া কেন্দ্র সংকট সত্ত্বেও কমার্শিয়াল এলপিজি বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল শুক্রবার। পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার থেকে দেশে যত বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা, তার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ করা হবে। এলপিজি সংকটের পরই সরকার জানিয়েছিল প্রধান অগ্রাধিকার গৃহস্থদের রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। তাই বাণিজ্যিক এলপিজি সংযোগে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশজুড়ে হোটেল, রেস্তরাঁ, ছোট মাঝারি ফুডস্টল তো বটেই, বিভিন্ন শিল্পসেক্টরও মুখ থুবড়ে পড়ে। যে সেক্টরগুলিতে এলপিজি ছাড়া একদিনও চলবে না, তাদের তাবৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই কেন্দ্র নড়েচড়ে বসে এবং ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমার্শিয়াল সিলিন্ডার দেওয়া হবে বলে জানায়। পরে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। এবার তা আরও বেড়ে হল ৭০ শতাংশ। এবারও সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজ্যগুলিকে। অর্থাৎ কোন রাজ্যে কোন সেক্টর অগ্রাধিকার পাবে, সেটা রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। সরকার জানিয়েছে, যে কোনোরকম প্রসেসিং শিল্প এলপিজি ছাড়া চলবে না। আর খাদ্য থেকে বস্ত্র—প্রসেসিং প্রতিটি সেক্টরেই চালিকাশক্তি। অটোমোবাইল শিল্প সরকারকে জানিয়েছে বিগত সাতদিন নতুন উৎপাদন প্রায় বন্ধ। তার জেরে গাড়ি যারা বুকিং করছে ও করবে, তাদের ওয়েটিং পিরিয়ড বেড়ে চলেছে। রিয়েল এস্টেট শিল্পসংস্থার সংকট দ্বিগুণ। কারণ, সিমেন্ট এবং স্টিল, দুটিরই জোগান বন্ধ। সরকার জানিয়েছে, যে শিল্পে সরাসরি প্রাত্যহিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান যুক্ত, সেটাই হবে কমার্শিয়াল এলপিজি দেওয়ার অগ্রাধিকার।