


নয়াদিল্লি: প্রায় একমাস কেটে গেলেও পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত থামেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তোরত্তর বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের উপর ‘স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি’ (অন্তঃশুল্ক) কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাত্ই জ্বালানির দামবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তড়িঘড়ি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, পেট্রল ও ডিজেলে অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে কমানো হবে। এতদিন পেট্রলে প্রতি লিটারে ১৩ টাকা করে এই বিশেষ অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি নেওয়া হত। এখন থেকে পেট্রলে সেই শুল্ক দাঁড়াল প্রতি লিটারে ৩ টাকা। ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ছিল লিটার প্রতি ১০ টাকা। ফলে ডিজেলের জন্য আর এই শুল্ক দিতে হবে না। কেন্দ্রের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি বৃদ্ধির দামের আঁচ যাতে মানুষের গায়ে না লাগে, তার জন্যই শুল্ক কমানো হল।
শিল্পমহলের মতে, এই শুল্ক কমার সরাসরি সুফল সাধারণ মানুষ পাবেন না। পেট্রল-ডিজেলের দামও এতে কমবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়ামের মতো তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির (ওএমসি) ক্ষতি লাঘব করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে এই সংস্থাগুলি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। তার উপরই এক্সাইজ ডিউটি নেয় কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জন্য তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এখন অনেকেটাই বেড়েছে। তবে, সেই নিরিখে ভারতে এখনও পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়েনি। পাম্পে পেট্রল বা ডিজেল বিক্রি করতে গিয়ে সংস্থাগুলিকে প্রতি লিটারে ৪৮ টাকা ৮ পয়সা ক্ষতি হচ্ছে। তাই রাজস্ব কমলেও সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতে শুল্ক কমনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, অ্যাভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েলের মতো কিছু পেট্রপণ্য রপ্তানির উপর শুল্ক বাড়িয়েছে কেন্দ্র। ভারতে সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে কেন্দ্রের জনদরদী মনোভাব ও সংবেদনশীলতাই ফুটে উঠেছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২২ ডলার হয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রায় প্রতিটি দেশে বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারই বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মোদি সরকারের কাছে দুটি উপায় ছিল। এক, অন্য দেশের মতোই জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া অথবা আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েই দেশের মানুষকে এই মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে রক্ষা করা। কেন্দ্রীয় সরকার দ্বিতীয় উপায়টিই বেছে নিয়েছে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, মোদি সরকার শুধু সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কথা প্রচার করছে। বাস্তবটা সম্পূর্ণ আলাদা। কংগ্রেস নেতা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমা নিয়ে খবরের শিরোনাম দেখে যদি ভাবেন, আপনার পকেটের চাপ কমবে, তাহলে ভুল করছেন। আদতে স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি কমানো হয়েছে। ওই টাকা তেল সংস্থাগুলি সরকারকে দিয়ে থাকে। ‘স্পেশাল’ আর ‘অ্যাডিশনাল’-এর মতো শব্দগুলি থেকেই স্পষ্ট, এই ট্যাক্স কতটা অপ্রয়োজনীয়।