


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সাত সকালে ঘুম লাগা চোখে বাইরে বেরিয়ে ইনসাস রাইফেলধারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে কিছুটা ঘাবড়েই গিয়েছিলেন আরামবাগের বাসিন্দারা। শহরে কি জঙ্গি বা পাক চরের সন্ধান মিলল! ভুল ভাঙতে সময় বেশি লাগেনি— ইডি রেইড করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা আরামবাগ শহর সহ সংলগ্ন একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় এসফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একাধিক দলে ভাগ হয়ে বাড়ি, অফিস ও রিসর্টে অভিযান চালান ইডির অধিকারিকরা। তাতে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র কৌতূহল তৈরি হয় বাসিন্দাদের মধ্যে। যদিও কোন মামলার তদন্তে অভিযান চালানো হয়েছে তা জানা যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার ধারে একাধিক গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। গাড়িগুলির সামনে ভারত সরকারের ‘মিনিস্ট্রি অব ফিনান্স’ লেখা বোর্ড দেখা গিয়েছে। জওয়ানদের জিজ্ঞাস করেও জবাব মেলেনি। আধিকারিকরা কলকাতা থেকে এসেছেন বলে জানা যায়। জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিতে তল্লাশি চলে। অভিযান শেষে দিলীপ মাইতি নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গিয়েছে, আরামবাগের পারুল এলাকায় একটি শেয়ার মার্কেট সহ অর্থ লগ্নি সংস্থার অফিস রয়েছে। বছর কয়েক আগে সেই অফিস থেকে কাজকর্ম করা হতো। এরজন্য বহু মানুষের থেকে টাকা তোলা হয়। অভিযোগ, তারপরই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। ওই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার সৈয়দ জিয়াজুর রহমানকে ওড়িশায় গ্রেপ্তার করে ইকোনমিক অফেন্স উইংস। সেই ঘটনায় কয়েকমাস আগে কিছুদিনের জন্য আরামবাগ থানার পুলিসও তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে সে ওড়িশার জেলে রয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ওই সংস্থার ডিরেক্টর, এজেন্ট সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান চলে। আরামবাগ শহর সংলগ্ন ডিহি বায়রার একটি রিসর্টেও দিনভর অভিযান চলে। সেখানকার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাইরেও কাউকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়নি। অন্যান্য দিনের মতো এদিন রিসর্টে অনেকেই বেড়াতে আসেন। কিন্তু গেটে সশস্ত্র জওয়ানদের দেখে তাঁরা চলে যান। এছাড়া পারুল, বাসুদেবপুর, বিবেকানন্দ পল্লি, আমতলা প্রভৃতি জায়গায় একাধিক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চলে। লিংক রোডেও একটি অফিসে যান তদন্তকারীরা। তারই মাঝে দুপুরে সংস্থার মূল অফিসের শাটার সিল করে দেওয়া হয়। এছাড়া পারুল এলাকার বাড়ি থেকে এক দম্পতিকে গাড়িতে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা অবশ্য এই ব্যাপারে কিছু জানেন না বলেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
সকাল থেকেই প্রত্যেকটি জায়গায় মোতায়েন ছিল বাহিনী। একসঙ্গে পাঁচ-ছয়জনকে দেখা যায়। আরামবাগের এক বাসিন্দা সঞ্জীব হেলা বলেন, বিবেকানন্দ পল্লি এলাকার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা বন্দুক নিয়ে জওয়ানদের দেখলাম। কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। পরে শুনলাম ইডি অভিযান চালিয়েছে। আরও কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চলছে। তবে যাঁদের বাড়িতে অভিযান চলছে বলে দেখলাম, তাঁরা ওই অর্থ লগ্নি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে শুনেছি।
বিবেকানন্দ পল্লিতে সকালে রাস্তায় লোক জড়ো হয়ে যায়। পথচলতি মানুষও কৌতূহল নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। এদিনের অভিযান নিয়ে পুলিসও কিছু জানায়নি।