


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গণবণ্টন ব্যবস্থায় বিনামূল্যের খাদ্যশস্য বেহাত হচ্ছে না তো? প্রকৃত গ্রাহকই পাচ্ছে তো? তা নিশ্চিত করতে এবার কড়া হচ্ছে কেন্দ্র। এখনও যেসব রাজ্যে রেশন গ্রাহকের ‘ই-কেওয়াইসি’ বাকি আছে, তা আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যমন্ত্রক। একইভাবে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সব রেশন গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি ‘চেক’ করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। এই ব্যবস্থাতেই ভুয়ো রেশন কার্ড আটকানো যাবে বলে মনে করছে সরকার। মন্ত্রকের তথ্য মোতাবেক, এখনো পর্যন্ত গোটা দেশে ৮৭ শতাংশ তথা ৬৯ কোটি ৭০ লক্ষ গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি রয়েছে। তা ১০০ শতাংশ করতেই হবে। আধার সংযোগ, আঙুলের ছাপ, মোবাইল নাম্বার নিয়ে তা রেশন কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তাহলে কে রেশন পেল, তা যেমন ওই ব্যক্তি এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন, তেমনই দিল্লিতে বসেও খাদ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট পেতে সহজ হবে। রেশন দোকানদেরও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে গ্রাহকের ই-কেওয়াসি করাতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের এই দায়িত্ব পালনে আপত্তি না থাকলেও ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু মোদি সরকারকে পালটা চাপ দিয়েছেন। দোকানদারদের কমিশন বাবদ বকেয়া মেটানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনায় দেশের প্রায় ৮০ কোটি গরিবকে বিনামূল্যে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে চাল-গম দেয় মোদি সরকার। এই খাতে খরচ কমাতে চাইছে কেন্দ্র। তাই ভুয়ো কার্ড বাতিলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য মোতাবেক, এখনও দেশে ৮ কোটি ৫১ লক্ষ জাল অথবা ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড রয়েছে। যা একমাত্র সঠিকভাবে ই-কেওয়াইসিতেই ধরা পড়বে। এবং কেন্দ্রের ৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা বাঁচবে। সরকারি কর্মচারী, আয়করদাতা, গাড়ির মালিক, জিএসটি রেজিস্ট্রেশন আছে, এমন ব্যক্তিকে বিনামূল্যের রেশনের গ্রাহক তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়। অথচ এরকম বহু গ্রাহক রেশন নিচ্ছেন বলেই কেন্দ্রের দাবি। ‘অযোগ্য গ্রাহক’ চিহ্নিত করতে রাজ্যগুলিকে সক্রিয় হতে বলেছে কেন্দ্র। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ম কার্যকর করলেও সমস্যা হবে না। কারণ, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার বাইরে রাজ্য সরকার নিজের প্রকল্প ‘খাদ্যসাথী’র মাধ্যমে রাজ্যের সকলকেই খাদ্যশস্য দেয়।