নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাড়িতে পুরোনো দিনের রেডিও নাকি স্মার্টফোনে রেডিও শোনেন? টিভি থাকলে তা অ্যান্টেনাযুক্ত পুরোনো মডেলের, নাকি কেবেল বা ডিশ আন্টেনা যুক্ত? বাড়িতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আছে কি না? পরিবারের সদস্যদের প্রধান খাদ্য কী? জনগণনার গৃহগণনা পর্বে রেডিও, টিভি, কম্পিউটার-সহ পরিবারের সদস্যদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সাধারণ মানুষকে।
আগামী ১আগস্ট শুক্রবার থেকে নদীয়া-সহ রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে জনগণনার প্রথম পর্ব, অর্থাৎ গৃহগণনার কাজ। এই প্রথম দেশে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করা হচ্ছে। এতদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাতায়-কলমে তথ্য সংগ্রহ করা হত। এবার থাকছে সেলফ ইনিউমারেশনের সুবিধা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ চাইলে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেরাই তথ্য জমা দিয়ে জনগণনার আওতায় আসতে পারবেন।
নদীয়া জেলায় এই কাজে সমীক্ষক ও সুপারভাইজার মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার সরকারি কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা সেলফ ইনিউমারেশনের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। সাধারণ মানুষ যাতে নিজেরাই তথ্য জমা দেন, সে বিষয়ে তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় প্রায় ১০হাজারেরও বেশি হাউস লিস্টিং ব্লক তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে ১২০থেকে ১৫০টি বাড়ি রাখা হয়েছে। জেলায় ১০ হাজার ২০০ জনেরও বেশি সমীক্ষক এবং ১৬০০ জনের বেশি সুপার ভাইজার থাকবেন। পাশাপাশি জেলার ১৮টি ব্লক ও ১১টি পুরসভার জন্য মোট ২৯জন চার্জ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব হবে জনগণনার কাজের সামগ্রিক তদারকি করা, সমীক্ষক ও সুপার ভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সংগৃহীত তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোডের ব্যবস্থা করা।
জানা গিয়েছে, ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে সেলফ ইনিউমারেশন করতে পারবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমীক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রথম পর্বে গৃহ গণনার জন্য ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বাড়ির ছাদ, মেঝে ও দেওয়াল কী দিয়ে তৈরি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, মহিলা ও পুরুষের সংখ্যা, তফসিলি জাতি(এসসি) বা তফসিলি উপজাতি(এসটি) সদস্য রয়েছেন কি না, কতজন দম্পতি আছেন, পানীয় জলের উৎস, বিদ্যুতের উৎস, রান্নার গ্যাস এলপিজি না পিএনজি, এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। গৃহগণনার কাজ শেষ হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে মূল জনগণনার কাজ।
২০১১ সালে দেশে শেষবার জনগণনা হয়েছিল। এরপর ২০২১-২২ সালে করোনা অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আগেই কাজ শুরু হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী জেলার জনঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৩০০ জন।