Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে সেলিব্রেটি মুখ সোহম নজর কাড়ল ডাক্তার ফ্যাক্টর, টিকিট পেলেন না মুকুটমণি অধিকারী

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলার ১৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বহুমুখী কৌশলের ইঙ্গিত দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

করিমপুরে সেলিব্রেটি মুখ সোহম নজর কাড়ল ডাক্তার ফ্যাক্টর, টিকিট পেলেন না মুকুটমণি অধিকারী
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলার ১৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বহুমুখী কৌশলের ইঙ্গিত দিল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর ও দক্ষিণ নদীয়া দুই সাংগঠনিক জেলাতেই প্রার্থী নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, নতুন মুখ, সামাজিক সমীকরণ এবং ইমেজ ম্যানেজমেন্ট সহ সবকিছুর সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা স্পষ্ট। নদীয়া দক্ষিণ জেলায় প্রার্থী তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ‘ডাক্তার ফ্যাক্টর’।

Advertisement

নদীয়া উত্তর জেলায় করিমপুর বিধানসভায় বিদায়ী বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়ের পরিবর্তে সেলিব্রেটি মুখ সোহম চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুব ভোটার এবং শহুরে অংশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে দল। তেহট্ট বিধানসভায় বিধায়ক তাপস সাহার মৃত্যুর পর দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের দিলীপ পোদ্দারকে প্রার্থী করা হয়েছে। মতুয়া ভোট ব্যাংককে সুসংহত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল এই আসনে পিছিয়ে রয়েছে। 
রদবদল করা হয়েছে পলাশীপাড়া ও চাপড়া বিধানসভায়। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মানিক ভট্টাচার্যকে টিকিট না দিয়ে দল ক্লিন ইমেজের বার্তা দিয়েছে। এবার চাপড়ার তিনবারের বিধায়ক রুকবানুর রহমানকে পলাশীপাড়ায় প্রার্থী করা হয়েছে। 
অন্যদিকে চাপড়ায় জেবের শেখকে প্রার্থী করে তৃণমূল এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছে। একদিকে বিদ্রোহী ভোটকে দলে টানা, অন্যদিকে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগানো। কারণ তিনি  ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েও তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে চাপড়ায় তৃণমূলের লিডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই দলীয় মহলের মত। 
জেবের সাহেব বলেন, দল আমার উপর ভরসা রেখেছে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে চাপড়া আসনটি তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করাই আমার লক্ষ্য। সেই সঙ্গে কালীগঞ্জ বিধানসভায় উপ নির্বাচনে জয়ী তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ, নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসের এবং নবদ্বীপের বিধায়ক পুণ্ডরিকাক্ষ সাহাকে পুনরায় টিকিট দিয়েছে দল। চমক আনা হয়েছে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধানসভার প্রার্থী নির্বাচনেও। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে নবাগত মুখ অভিনব ভট্টাচার্যকে। তিনি মঙ্গলবার সকালেই তৃণমূলের যোগ দেন। 
অন্যদিকে নদীয়া দক্ষিণ জেলায় প্রার্থী তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ‘ডাক্তার ফ্যাক্টর’। হরিণঘাটা, কল্যাণী, রানাঘাট দক্ষিণ এবং কল্যাণী বিধানসভায় ডাক্তারি পেশার সঙ্গে যুক্ত নতুন মুখকে প্রার্থী করেছে দল।  মতুয়া অধ্যুষিত হরিণঘাটা বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে নবাগত মুখ রাজীব বিশ্বাসকে। 
রাজীববাবু বলেন, হরিণঘাটার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা এবার বিজেপিকে শিক্ষা দেবে। কারণ বিজেপি বারবার তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এবার হরিণঘাটায় তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।’ একইভাবে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় উপনির্বাচনে জয়ী তৃণমূলের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীকে টিকিট দেওয়া হয়নি। সেই জায়গায় ডাক্তার সৌগতকুমার বর্মনকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আবার কল্যাণী বিধানসভায় ডাক্তার অতীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে তৃণমূলের তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনিও মঙ্গলবার সকলেই তৃণমূলে যোগ দেন।  রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী বর্ণালী দেরায়কে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিভাবক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আমার উপর আস্থা রাখার জন্য‌। মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে এই আসনটি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেব। শান্তিপুর বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর উপর পুনরায় আস্থা রেখেছে দল। রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে তাপস ঘোষকে। চাকদহ বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে যুবনেতা শুভঙ্কর সিংহকে এবং কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী করা হয়েছে সমীর পোদ্দারকে।  
  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ