নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর দুই আগে নদীয়ায় পুলিস হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট ভাশুরকে না পেয়ে স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিস। পরদিন সকালে একটি বাঁশবাগান থেকে স্বামী শওকত মণ্ডলের দেহ উদ্ধার হয়। তা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্ত্রী মঞ্জুরা বিবি। ঘটনাটি করিমপুরের মরুটিয়া থানার। এই ঘটনায় আগেই এফআইআর দায়েরসহ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত যেদিন (২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর) ওই নির্দেশ দিচ্ছেন, সেদিনই মামলাকারীর ভাশুরের স্ত্রীকে থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিস। এমনকী, অন্য একটি খুনের ঘটনায় ওই মহিলাকে পুলিস অভিযুক্ত করে দেয় পরবর্তীকালে। বাধ্য হয়ে তিনি আগাম জামিনের আবেদন জানান। তখন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি, মিথ্যা মামলার অভিযোগে সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই ঘটনার সূত্রে আদালত যেহেতু সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আগেই, তাই পুলিসি হেফাজতে শওকতের মৃত্যুর মামলাতেও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে যান মঞ্জুরা। মামলাকারীর আইনজীবী নীলাদ্রিশেখর ঘোষ ও আইনজীবী দেবর্ষি ব্রহ্ম দাবি করেন, পুলিস হেফাজতে এই মৃত্যুর ঘটনাতেও সিবিআই তদেন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। তার বিরোধিতা করে রাজ্য জানায়, এটি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাই নয়। এই মামলায় বিচারপতি ঘোষ আগেই জানিয়েছিলেন, আর জি করের খুন ও ধর্ষণ কাণ্ড সিবিআই পাওয়ায় তাদের আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তাহলে কেন তেমনই হবে না?
এদিনও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি ঘোষ জানান, আর জি করে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই কারণে এর আগে আর জি করে আর্থিক দুর্নীতির মামলাতেও হাইকোর্টই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তাই এবার এই রহস্যমৃত্যুর মামলাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল।



