চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে ক্যাটস আই, কমল রঙের মসৃণতা!
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: নতুন রংয়ের প্রলেপ মাখা চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে বৃষ্টির মাঝে আছাড় খেয়ে পড়েছিল পর পর তিনটি বাইক। বুধবারের ওই ঘটনার ভিডিয়ো সামনে আসতেই ফ্লাইওভারের উপর রামধনু রং করা নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। অবশেষে দুর্ঘটনার জেরেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার। গতি নিয়ন্ত্রণে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের উপর বাঁকগুলিতে বসানো হয়েছে রোড স্টাড তথা ক্যাটস আই। পাশাপাশি, মেকানিক্যাল সুইপার গাড়ি দিয়ে ঘষে মসৃণতা কমানো হয়েছে। যাতে বৃষ্টি হলেও পিছল না হয়। বৃষ্টির সময় এই ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বাইক চলাচল বন্ধ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।

Advertisement

বুধবারের বাইক আছাড় খাওয়ার ভিডিও একটি গাড়ির ড্যাশক্যাম থেকেই সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তা না হলে ওই দৃশ্য ধরা পড়ত না। অনেকে বলছেন, এই একমুখী ফ্লাইওভারটি সাপের মতো আঁকাবাঁকা। ওঠার পরই প্রথমে ডানদিকে বাঁক। কিছুটা এগিয়েই আবার বাঁদিকে বেঁকে সল্টলেক বাইপাসে নেমেছে। বৃষ্টির ফলে এমনিতেই ঝুঁকি থাকে। তার উপর রংয়ের জেরে আরও পিছল হয়ে গিয়েছিল। মেকানিক্যাল সুইপার গাড়ি দিয়ে ঘষার পর এদিন ফ্লাইওভারে গিয়ে দেখা গেল, আগের চেয়ে উজ্জ্বলতা কমেছে। মসৃণতাও কমানো হয়েছে। 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা বলেন, যেখানে ঘটেছে সেখানে উড়ালপুলটা শার্প বেন্ড। গাড়ি স্পিডে গেলে দুর্ঘটনা হতে পারে। ক্যাটস আই লাগানো হয়েছে। ফলে, গাড়ির গড় গতিবেগ কমবে। বৃষ্টি হলে প্রয়োজনে ওই ফ্লাইওভারটি মোটর সাইকেল চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেব। যাতে এই ধরনের ঘটনা না হয়। গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার সোজা। তাই ওখানে ঠিক আছে। পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, রঙের জন্য হয়েছে, এটা বলা যাবে না। হয়ত হয়েছে। যাঁরা ইঞ্জিনিয়ার তাঁরা বলেছেন, ওটায় ‘অ‌্যান্টি স্কিড’ উপকরণ রয়েছে। ফ্লাইওভারের জয়েন্টে স্টিল প্লেট ও কংক্রিট থাকে। সেখানে রং হলে পিছল হতে পারে। কিন্তু ‘বিটুমিনাস সারফেস’-এ এইরকম সম্ভাবনা নেই। তবে, বৃষ্টি হলে এমনই পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কীভাবে পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উড়ালপুলে কোনো লোক ছিল না। রং দেখার পর আমরা মনে করছি, তার জন্য পড়ে গিয়েছে। এটা ওয়াল পেন্ট নয়। রোবট পেন্ট।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, এখানে তেল রং ব্যবহার করা হয়নি। অ্যান্টি স্কিড রং ব্যবহার করা হয়েছে। তাও যখন ঘটনাটি ঘটেছে, আমরা দেখছি। আমি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়েছি। পুলিশ, কেএমডিএ, পূর্তদপ্তর এবং দমকল কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যারা ৩৪ বছর কিছু করেনি, যারা ১৫ বছর কিছু করেনি, তাদের কথা শুনব না। বাংলার মানুষের কথা শুনব।