ভোপাল: ‘জাতপাত এবং অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক! জাতের নামে বজ্জাতি বা দুর্ব্যবহার সমাজকে দুর্বল করে দেয়। কোনো আইন বা উপদেশ এর মোকাবিলা করতে পারে না।’ সমাজে বেড়ে চলা বিভাজনের বিষ নিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের। আর তাই শতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চেও জাতপাত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সঙ্ঘের সরকার্যবাহ তথা সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবালে। রবিবার ভোপালের লাল প্যারেড গ্রাউন্ডের সভায় আরএসএসের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ‘জাতিভেদ মানব না এবং অস্পৃশ্যতার কোনো নাম-নিশানা থাকবে না। এই সংকল্প নিতে হবে আমাদের। জাতি, ধর্ম, ভাষা এবং প্রদেশের ভিত্তিতে সবাই নিজেদের পৃথক ভাবলে চলবে না। এতে সংগঠনের শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। সবাই মিলে সমাজকে জাগ্রত ও সংগঠিত করতে হবে।’ আর এব্যাপারে প্রত্যেককে এগিয়ে আসার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘স্বয়ংসেবকরা দেশভক্ত হবেন, সমাজসেবা করবেন, আর বাকিরা শুধু দেখবেন, এমনটা হতে পারে না।’
গত ১২ বছর ধরে দেশ শাসন করছে বিজেপি। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজ্যে পদ্মপার্টি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বিদ্বেষ ভাষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগও উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে। শতবর্ষে পদার্পণ করে আরএসএস অবশ্য সরব হয়েছে সমাজে ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে। সম্প্রতি আমেরিকায় এক অনুষ্ঠানে স্বয়ং সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতও বলেছেন, ‘যদি কোনো হিন্দু ভাবেন যে ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি হিন্দুই নন।’ রবিবার তারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে হোসবালের গলাতেও। তিনি বলেছেন, ‘জন্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদের কোনো জায়গা নেই হিন্দু সমাজে। জাতিভেদ আর অস্পৃশ্যতার অন্ত হবে। আর সেই কাজ শুরু করতে নিজের ঘর থেকে, নিজের ব্যবহারের মাধ্যমে।’
কিন্তু কেমন হবে সেই ব্যবহার? কয়েকদিন আগেই মুম্বইতে নবরাত্রি উৎসবে গরবা নাচের অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। যে মধ্যপ্রদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে হোসবালে জাতপাত খতম করার কথা বলেছেন, সেই রাজ্যেরই এক বিজেপি বিধায়কের একটি ভিডিয়ো সদ্য ভাইরাল হয়েছে। তাতে ওই নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মুসলিমরা একা কেন আসবেন! মা-বোনদের নিয়ে গরবা নাচের অনুষ্ঠানে আসুন। আমাদের ছেলেরাও রেডি থাকবে!’ দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে তো আকছার ‘মুসলিম লিগ’ বলে কটাক্ষ করেন শাসকদল বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। তাঁদের অধিকাংশ আরএসএসের নানা শাখার সঙ্গে যুক্ত। এসব ক্ষেত্রে হোসবালের নিদান কী হবে? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য তাঁর দেওয়া ভাষণে মেলেনি।