সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্কুলে হাজিরা খাতায় আর সাংকেতিক চিহ্নে উপস্থিত বা অনুপস্থিত লেখা যাবে না। হাজিরা খাতায় স্পষ্ট করে ইংরেজি অক্ষরের ক্যাপিটেলের ‘পি’ এবং ‘এ’ লিখতে হবে। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে পড়ুয়াদের উপস্থিতির নিয়মে বিশেষ বদল আনল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শিক্ষাদপ্তর। ঘাটাল চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক সৌমেন দে বলেন, চলতি সপ্তাহেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল থেকে এই নির্দেশ জেলার সমস্ত স্কুলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিকে ওই নির্দেশ মেনে হাজিরা খাতা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও।
দাসপুর-১ ব্লকের সাগরপুর স্যার আশুতোষ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মানসকুমার মান্না বলেন, শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশ পেয়েছি। এবার থেকে ওই নির্দেশ মেনেই হাজিরা খাতায় লেখা হবে।
এর আগে হাজিরা খাতায় উপস্থিতদের নামের পাশে ইংরেজির টানা হাতের অক্ষরে ‘পি’ লেখা হত। আর অনুপস্থিতদের নামের ঘরের পাশে ‘ডট’ দেওয়া হত। অধিকাংশ স্কুলেই ওই টানা অক্ষরের ‘পি’ লেখাটি অপভ্রংশ হয়ে এমন দেখাত যে, বাস্তবে কী লেখা রয়েছে, তা বোঝা মুশকিল হত। তাছাড়া, অনুপস্থিতদের নামের পাশে ‘ডট’ দিয়ে রাখলে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ থাকত। স্কুল ইচ্ছে করলে পরে ওই ডট চিহ্নের উপরে টানা হাতের ‘পি’ লিখে অনুপস্থিত পড়ুয়াকেও উপস্থিত দেখাতে পারত। মিড ডে মিলের হিসাবেও হেরফের করা যেত অনুপস্থিতির ওই ‘ডট’-এর মাধ্যমে।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কুলের অ্যাটেনডেন্স বা হাজিরা খাতায় এখন থেকে আর সেই সুযোগ পাওয়া যাবে না। তাই উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের নামের পাশে ইংরেজি বড়ো হাতের ‘পি’ (প্রেজেন্ট-এর আদ্যক্ষর) এবং অনুপস্থিতদের পাশে ‘এ’ (অ্যাবসেন্ট-এর আদ্যক্ষর) লিখতে হবে। রোল কলের শেষে ক্লাস টিচারদের অবশ্যই প্রতিদিন মোট কতজন উপস্থিত ও কতজন অনুপস্থিত, তা আলাদাভাবে গুনে হাজিরা খাতার নীচের নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করতে হবে।
শিক্ষাদপ্তরের একাংশের মতে, পড়ুয়াদের উপস্থিতির সঠিক হিসাব রাখতেই প্রশাসনের তরফে এই নয়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্কুলগুলির পঠনপাঠন ও উপস্থিতির হারের উপর নজরদারি আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি সময় সাপেক্ষ বলে দাবি করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ বিরোধিতা করেছে।