


অম্লানকুসুম চক্রবর্তী
চারবার ঘণ্টাধ্বনি হল ড্রয়িংরুম জুড়ে। কলিং বেল। এই সময়ে তো বেল বাজার কথা ছিল না। আমি না চাইলে, অ্যাপ্রুভ না করলে এই ফ্ল্যাটের কলিং বেল বাজে না। কে এল? কেন এল? আমার অল্পতেই খুব টেনশন হয়ে যায়। আমি ঘামতে শুরু করলাম। দরজার দিকে এগতে ভয় করছিল। কে দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপাশে? আমার ভালো লাগছে না। আমাকে আগে থেকে না জানিয়ে আমার ফ্ল্যাটের কলিং বেল বাজেনি কোনওদিন।
আমার ফ্ল্যাট একুশ তলায়। কমপ্লেক্সের নাম নেচারস লাভ। দক্ষিণ কলকাতা। ফ্ল্যাটটা কিনেছি দু’বছর আগে। খবরের কাগজে এই কমপ্লেক্সের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন আপনারাও দেখেছেন হয়তো। ৬২ শতাংশ খোলা জায়গা, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, সুইমিং পুলের মতো কিছু ফালতু পয়েন্টের পাশাপাশি যে পয়েন্টটা আমার চোখ টেনেছিল তা হল, মাল্টি লেভেল সিকিউরিটি সিস্টেম। বেস্ট ইন ক্লাস। আমার এই সিকিউরিটি ব্যাপারটার উপরে একরকমের দুর্বলতা আছে বলতে পারেন। যে যার সঙ্গে দুম করে দেখা করে ফেলবে ইচ্ছে হলে, এটা ভাবলেই আমার কেমন যেন গা বমি বমি করে। প্রচণ্ড বিরক্তি আসে। কেন রে ভাই? তোমার ইচ্ছে হলেই আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে যাব কেন? আমার ইচ্ছের কোনও দাম নেই নাকি? আমার ফ্ল্যাটের কলিং বেল তো বারোয়ারি নয়। ওই বিজ্ঞাপনের তলায় যে নম্বর দেওয়া ছিল, ফোন করলাম। বললাম, ‘এই বেস্ট ইন ক্লাস সিকিউরিটি ব্যাপারটা নিয়ে আমায় একটু বিশদে বলবেন প্লিজ?’ ওরা বলল, ‘ওগুলো তো সেকেন্ডারি ব্যাপার। ফ্ল্যাট নিয়ে আপনার কি আর কিছু জিজ্ঞাস্য নেই স্যার?’ আমি বললাম, ‘যা জিজ্ঞেস করেছি, তার উত্তর দিন ক্লিয়ারলি।’ শুনে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেল কি? কে জানে। বলল, ‘দুটো লেভেলের সিকিউরিটি আছে স্যার। যখন কোনও ভিজিটর আসবে, একেবারে বাইরের গেট থেকে আপনার মোবাইলে একটা নোটিফিকেশন আসবে, অ্যাপ মারফত। ভিজিটরের নাম সেখানে লেখা থাকবে। তার ছবিও থাকবে। আপনি অ্যাপ্রুভ করলে তবেই তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, নেচারস লাভে বারোটা টাওয়ার রয়েছে। ভিজিটর যখন আপনার ফ্ল্যাটের টাওয়ারের নীচে পৌঁছবে, তখন সেখানকার সিকিউরিটি ইন্টারকমে ফোন করবে, অ্যাপে অ্যাপ্রুভাল দিয়েছেন জানা সত্ত্বেও। এটা অন্য কোথাও পাবেন না। ডেবিট কার্ডের পিন জানলেও অনেক সময় মোবাইলে ওটিপি আসে। দুটো উত্তরই ঠিকঠাক না জানলে এগনোর রাস্তা বন্ধ। এটা অনেকটা সেরকম স্যার।’ আমি বলেছিলাম, ‘গ্রেট। আমি নেব। আজকেই দেখতে যাচ্ছি।’ বলল, ‘আর কোনও কোয়ারি নেই স্যার?’ আমি ফোন কেটে দিয়েছিলাম। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলতে আমার ভালো লাগে না।
আমার এখন একত্রিশ। বাবা-মা নেই। মানে, চলে গিয়েছে আর কী। আমি একমাত্র সন্তান। বিয়ে করিনি। করবও না। অন্য কারও মুখের দিকে তাকিয়ে বসে থাকা আমার জাস্ট পোষায় না। আত্মীয়স্বজন আছে কিছু। ওই দুই কাকু, এক মামি, এক পিসি আর কি। কাউন্টটা কি ঠিক করলাম? বহুকাল যোগাযোগ নেই। লোকের সঙ্গে ফালতু খেজুর করতে ভালো লাগে না আমার। বন্ধুবান্ধব ব্যাপারটা আমার অত্যন্ত ইরিটেটিং লাগে। এ শালা স্বার্থপরের দুনিয়া। সবাই সবার সঙ্গে ধান্দায় মেশে। আমার কোনও ফেসবুক অ্যাকাউন্টও নেই। ওই ফ্রেন্ড কথাটা আমি একেবারে সহ্য করতে পারি না। এ যুগে ফ্রেন্ড বলে সত্যি কিছু হয় না।
আমি তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করি। আপনাদের ভাষায় আইটি। আমার ওয়ার্ক ফ্রম হোম। আরেকটা কথা বলব? বিশ্বাস করবেন? অবশ্য না করলেও আমার কিছু যায় আসে না। বিশ্বাস করানোর কোনও দায় আমার নেই। বলছিলাম যে, গত দেড় বছর আমি নীচে নামি না। অফিসের জরুরি ফোন ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলি না। ভিজিটর সম্পর্কে কোনও আগাম তথ্য না থাকলে দরজা খুলি না। আমার ভিজিটর বলতে শুধুমাত্র অনলাইন ডেলিভারি বয়। গিভ অ্যান্ড টেক পলিসি। এইসব লোকের মুখ দেখার মধ্যে একটা পারপাস আছে। ফালতু হ্যাজানোর মতো সময় এই দুনিয়ায় কারও না থাকাই উচিত। জীবন একটাই। অন্যকে নয়, আনন্দ দাও নিজেকে। প্যাম্পার ইওরসেল্ফ। তারপর হাসতে হাসতে ফুটে যাও। ব্যস।
রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছলাম আমি। ভীষণ টেনশন হচ্ছিল। চিৎকার করলাম, ‘কে ওখানে? কে?’ দরজার ওপাশ থেকে উত্তর এল, ‘আমি।’ নারী কণ্ঠ! আরও ঘাবড়ে গেলাম। সিকিউরিটিতে ফোন ঘোরালাম। মূল সিকিউরিটি। একেবারে বাইরের গেট।
—মশকরা হচ্ছে নাকি? কোনও নোটিফিকেশন ছাড়া আমার কলিং বেল বাজছে কী করে?
—আপনার ফ্ল্যাটেরও তো নেইবার হতে পারে স্যার। প্রতিবেশী।
—শাট আপ। আমার কোনও প্রতিবেশী নেই। কে বেল বাজাচ্ছে?
—এমন ঘটনা আজ প্রথম ঘটল স্যার। সার্ভারটা ডাউন। অ্যাপ কাজ করছে না।
—রাবিশ। কে এসেছে আমার কাছে? আর তোমরা অ্যালাউ করে দিলে?
—একজন মহিলা স্যার। ভিখারি টাইপ। আপনার নাম বলছিল বার বার। আর কাঁদছিল। হার্মলেস। অ্যালাউ করে দিয়েছি।
—স্টুপিড।
এবার ফোন করলাম আমার ফ্ল্যাটের নীচের সিকিউরিটি পয়েন্টে।
—মেইন সিকিউরিটি ছেড়ে দিল। তাই বলে তোমরাও? ইয়ার্কি মারছ আমার সঙ্গে?
—ওই মহিলা ফোন করতে দিল না স্যার। বলল, একদম বোলো না আগে থেকে। খুব খুশি হবে আমার সোনামণি।
সোনামণি? এ কী নাম শুনলাম? রঙিন আমি চলে গেলাম সেপিয়া মোডে। গুগল ফোটোজ থেকে পুরনো হয়ে যাওয়া অ্যালবামের ফ্রেমবন্দি রঙিন ছবি, হলুদ। দক্ষিণ কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রামের পৈতৃক বাড়ি। টাইম মেশিন। ঠাকুরদা, মা, বাবা আর তখনও অবিবাহিত দুই কাকুকে নিয়ে যৌথ পরিবার। মালতীদির কোলে বসে রয়েছি আমি। আড়াই কিংবা তিন বছরের আমি। আর মালতীদি আমায় আদর করে দিচ্ছে পরম মমতায়। দুনিয়ায় একটা লোকই আমায় সোনামণি বলতে ডাকত। মা-বাবা অফিসে বেরিয়ে যেত দু’জনেই। মালতীদিই তো দেখত আমায়। ওই বাড়ির কাজের লোক। বয়সে আমার সঙ্গে অন্তত চল্লিশ বছরের ফারাক। দিদি বলতাম কেন?
এই স্মৃতিগুলো আমি এনজয় করছি না। এগুলো আমার কাছে ভীষণ ইনডাইজেশনের পরে সকালবেলা বমি বমি ভাবের মতো। অ্যান্টাসিড নেওয়া প্রয়োজন, ইনট্রাভেনাস।
কলিং বেল বাজল আবার। ওদিক থেকে আওয়াজ এল, ‘দরজা খোল, সোনামণি আমার।’
আনশিডিউলড দরজা খুললাম, এই প্রথম। দেখি দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রবল কুঁজো হয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধা। শীর্ণ। চামড়া কুঁচকে গিয়েছে সারা শরীরের। পরনের শাড়িটা শেষ কবে কাচা হয়েছে সেটা শার্লক হোমসও বলতে পারবে কি না সন্দেহ। মুখ স্নান করছে বলিরেখায়। আমাকে দেখেই একগাল হাসি। ‘সোনামণি। কেমন আছিস বাবা আমার?’ আমি নিজেকে সামলে নিলাম। পিছিয়ে গেলাম আরও। আমার সারা শরীরে স্যানিটাইজার স্প্রে করতে হবে, এখনই।
—কেমন আছিস সোনামণি?
—মালতীদি। এ কী চেহারা হয়েছে তোমার?
—সোনামণি আমার খবর রাখে না। এমন চেহারা তো হবেই।
আমার শরীরের মধ্যে থাকা কোনও একটা যন্ত্র প্রবল অ্যালার্ম বাজিয়ে দিল আমার কানে। কানের পর্দা চিরে দিল। ধার চাওয়ার কেসগুলো এভাবেই শুরু হয়। এসব লাইনগুলোর একটাই ট্রিটমেন্ট হওয়া উচিত। শোনামাত্র গুলি। যাক গে। খুব আর্লি হয়ে যাচ্ছে মনে হয়।
—কী করছ তুমি এখন?
—শরীর না দিলে লোকে কী আর করে বাবা? ভিক্ষা করি। মধ্যমগ্রাম রেলস্টেশনে।
—ভিক্ষা কর!
—আর কোনও কাজ করার যে মুরোদ নেই বাবা। শরীরে কিছু নেই।
—মধ্যমগ্রামের বাড়িতে তো দুই কাকুও থাকত। ওরা তোমায় দেখল না?
—গায়ে গতরে জোর না থাকলে কে আর কাকে দেখে!
গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এবারে ধপ করে ফ্ল্যাটের মেঝেতে বসে পড়ল মালতীদিদি। মুখটা বেঁকে গেল। এভাবে বসতে কষ্ট হচ্ছে বোধ হয়। বলল, ‘আমায় এক গ্লাস জল দিবি সোনামণি? কত বছর পরে তোকে দেখলাম।’
আমার বাড়িতে কাচের গ্লাসের সংখ্যা ঠিক দুটো। আই হেট লোকজন। তাই বেশি কেনার প্রয়োজন বোধ করিনি। প্লাস্টিকের, কাগজের ডিসপোজেবল গ্লাসও কিছু নেই। জলের আবদারের কেসটা চেপে যাওয়াই ভালো।
—আমার ঠিকানা তোমায় কে দিল?
—স্টেশনে একদিন তোর মেজো কাকুর সঙ্গে দেখা। চেয়ে নিলাম।
—ফোন না করে এলে কেন?
—ফোন নম্বর তো নিইনি।
—ঠিকানা নিয়ে নিলে আর ফোন নম্বরটা নিতে পারলে না?
—আমার তো ফোন নেই বাবা। কোথা থেকেই বা করতাম। ভাবলাম, দেখাই যখন হবে সোনামণির সঙ্গে, ফোন নম্বর নাই বা রইল।
—হঠাৎ দেখা করার ইচ্ছে হল কেন?
—তুই একেবারে আগের মতোই রয়ে গেলি, সোনামণি। সেই ছোটবেলা থেকেই তোর কথাবার্তা কী ভীষণ রকম স্পষ্ট। সবকিছু ভালোভাবে বুঝে নিতে চেষ্টা করতিস। আমার মাথায় একটা পাকা চুল দেখে তুই কী বলেছিলি মনে আছে? স্কুলের ম্যাডাম যে বলল যে হেয়ার ইজ ব্ল্যাক। তা হলে? হি হি হি। মিষ্টি সোনামণি আমার।
—তুমি ফোন না করে এলে কেন?
—এ মা! একই প্রশ্ন বারবার করে। এই যে বললাম। আয়, তোর মাথায় একটু বিলি কেটে দিই।
আমার সারা শরীরে অস্বস্তি দলা পাকাতে শুরু করে। ব্যাপারটা আমি একদম মেনে নিতে পারছি না। ফোন না করে আমার ফ্ল্যাটে কেউ আসবে কেন? ইন্টারকম বাজল। সিকিউরিটি বলল, ‘আশা করি অল সেফ্, স্যার।’ দমাস করে নামিয়ে রাখলাম হ্যান্ডসেট। ফালতু লোক যতসব।
—কী রে সোনামণি, আয়। আমার উপরে দায়িত্ব দিয়ে দাদা-বউদি বেরিয়ে যেত সারাদিনের জন্য। আর সোনামণি আমার! ওর মালতীদি কাছে থাকলে অন্য কাউকে লাগত না। বড় হয়ে গেলি বাবা। দাদা-বউদিও কী অকালে চলে গেল!
একটা বিদেশি রুম ফ্রেশনার কিনেছি কিছুদিন আগে। সারা ফ্ল্যাটে মেরে দিলাম, ঝটিতি। ওই মহিলার দিকে আরও বেশি করে স্প্রে করলাম। কিছু বুঝল কি না কে জানে। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আমায় দেখছে। ইরিটেটিং। আমার এবার সোজা পয়েন্টে চলে আসা উচিত।
—তোমার কত টাকার দরকার?
—দেখ ছেলের কাণ্ড! বাইশ-তেইশ বছর পরে আমার সোনামণির মুখটা দেখার এত সাধ হল, তা কি শুধু টাকার জন্য নাকি?
—কত দেব বল? পাঁচ হাজার হলে হবে?
অ্যামাউন্টটা শুনে আমায় কল্পতরু ভাবার কোনও কারণ নেই। এই অ্যাকাউন্টগুলো রেকারিংয়ের মতো। কিংবা এসআইপির মতো। ঠিকানা যখন জেনে গিয়েছে, প্রতি মাসে এসে হল্লা করবে। সিকিউরিটিকে বলব, পরের বার এলে ঠেঙিয়ে দিতে। ভিক্ষা করে খায়। প্রতি মাসে তিন-চারশো করে দেওয়ার থেকে একটা থোক টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া মাচ বেটার।
—আমার সোনামণি বলে কী! অত টাকা নিয়ে আমি কী করব? ভিখারি মানুষ।
—তুমি আর ফোন না করে আসবে না তো?
—আমার কাছে কি ফোন আছে? থাকলেও করতাম না। আমার সোনামণির কাছে ফোন করে আসব কেন? আমাদের কি তেমন সম্পর্ক? আদরের ধনকে যখন দেখতে ইচ্ছে করবে, চলে আসব। তবে হাঁটাচলাতে বড় কষ্ট হয় রে বাবা। গাড়িভাড়াও আছে।
—দরজা বন্ধ থাকলে?
—ফিরে যাব। আরেক দিন আসব।
আমি কি হেরে গেলাম? ভিতর থেকে এমন হেরো হেরো ফিলিং আসছে কেন? লুজার কোথাকার! আলমারি থেকে ক্যাশ বের করলাম। একশো টাকার বান্ডিল। দশ হাজার। দিদির মুখে ছুড়ে দিয়ে বললাম, ‘খুশি? আরও পাঁচ হাজার বেশি দিলাম। একটা মোবাইলও কিনে নেবে। কিন্তু কথা দাও, ফোন না করে আসবে না। এই কার্ডটাও রাখ। আমার ফোন নম্বর লেখা আছে।’
মালতীদিদি আমার দিকে চেয়ে আছে তো চেয়েই আছে। আমি দরজাটা খুলে দিলাম। প্রায় হামাগুড়ি দিতে দিতে বেরল ওই বুড়ি। আমার মুখের দিকে চেয়ে ছিল ঠায়। থাক চেয়ে!
অ্যাপ দিয়ে মেইড ডাকলাম। সুগন্ধি ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে ঘরটা মুছে দিয়ে গেল। ফ্রেশ লাগছে এবারে। সাজানো ইনবক্সে কেন যে এসব জাঙ্ক ইমেল আসে। সেন্টিমেন্টের গুঁড়ো দেয় আবার! যাক গে। মুক্তি।
পরের দিন সকালে একটা ভয়েস মেসেজ ঢুকল হোয়্যাটসঅ্যাপে। চালালাম।
‘মোবাইল কিনেছি সোনামণি। ৪৯০০ নিল। এটা কিন্তু আমার নম্বর নয়। ফোন কেনা হয়ে যাওয়ার পরে দোকানদার বলল, আমার কাগজপত্র ঠিক নেই। সিম কার্ড হবে না। এটাতে বড় আনন্দ হয়েছে বাবা আমার। আদরের ধনের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন কেন? এটা দোকানদারের নম্বর। বলল, যা বলার বলতে থাক। ঠিক জায়গায় পৌঁছে যাবে। বলছি, চোখে দেখার আরাম কি আর ফোনে মেটে? কাল অত দূরে গিয়ে পায়ের ব্যথাটা বড় বেড়েছে। একটা বাচ্চা ছেলে আমার সঙ্গে থাকে, স্টেশনেই। ফোনটা ফেরত পাঠাচ্ছি। সঙ্গে ৫১০০ টাকাও। আজই। আমি আবার হাজির হব দুম করে। আমার সোনামণি আগে হাসুক তো আমাকে দেখে। পরের কথা পরে।’