Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ থেকে নদীয়া জেলায় শুরু সিএএর শুনানি, চার মহকুমায় ৯০ হাজার আবেদনকারীর হিয়ারিং

আজ থেকে নদীয়া জেলায় শুরু হচ্ছে সিএএ’র শুনানি। জেলার চার মহকুমা—কৃষ্ণনগর সদর, রানাঘাট, কল্যাণী ও তেহট্টে মোট ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এই শুনানি হবে।

আজ থেকে নদীয়া জেলায় শুরু সিএএর শুনানি, চার মহকুমায় ৯০ হাজার আবেদনকারীর হিয়ারিং
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আজ থেকে নদীয়া জেলায় শুরু হচ্ছে সিএএ’র শুনানি। জেলার চার মহকুমা—কৃষ্ণনগর সদর, রানাঘাট, কল্যাণী ও তেহট্টে মোট ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এই শুনানি হবে। নদীয়ায় সিএএ’র আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৯৭ হাজার। এর মধ্যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার আবেদনকারীর শুনানি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ১০ হাজার ৯৯১ জনকে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে এখনও ৮৫ হাজারের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৯০ হাজার আবেদনকারীর শুনানি বাকি। সেইমতো জেলাজুড়ে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

Advertisement

কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক মৌলি স্যান্যাল বলেন, ‘আজ থেকে সিএএ’র শুনানি শুরু হচ্ছে। এসডিও অফিসেই ম্যাজিস্ট্রেটরা শুনানি করবেন।’ কৃষ্ণনগর সদর মহকুমায় চারজন এবং রানাঘাট, কল্যাণী ও তেহট্ট মহকুমায় তিনজন করে ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি করবেন। ফলে সর্বাধিক সংখ্যক আবেদনকারীর শুনানি হবে কৃষ্ণনগর সদর মহকুমায়। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটকে গড়ে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার আবেদনকারীর শুনানি করতে হবে। প্রশাসনের আশা, পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট থাকায় শুনানি প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেকটাই গতিশীল হবে।
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন,‘পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যে সিএএ’র কাজ হয়নি। তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার কারণে কেন্দ্র সরকার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু ডাক বিভাগের অফিস ও ম্যান পাওয়ার কম থাকায় কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন জেলা স্তরে সিএএ’র শুনানি হলেও এবার তা বিকেন্দ্রীকরণ করে মহকুমাস্তরে নিয়ে আসা হয়েছে। মহকুমাস্তরে নির্দিষ্ট জায়গায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আবেদনকারীদের শুনানি করবেন। শুনানির সময় আবেদনকারীদের একাধিক অ্যাফিডেভিট, ভারত ও বাংলাদেশের নথিপত্র, ধর্মীয় সংস্থার কাছ থেকে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রমাণপত্র সহ কেন্দ্র সরকারের নির্ধারিত সাত-আট ধরনের নথি নিয়ে হাজির হতে হবে।
শুনানি প্রক্রিয়ায় গোয়েন্দা রিপোর্ট নেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। এতদিন পোস্ট অফিসে শুনানির সময় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে আবেদনকারীদের রিপোর্ট নেওয়া হতো। এবার সেই দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের ইন্টেলিজেন্সকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে জেলা কমিটির মাধ্যমে সুপারিশপত্র রাজ্য কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এরপর রাজ্য কমিটি আবেদনকারীদের সুপারিশ কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে।
আগস্টের শেষ সপ্তাহে আবেদনকারীদের আগাম না জানিয়েই পোস্ট অফিসে সিএএ’র শুনানি বন্ধ হয়ে যায়। অথচ, অটো-জেনারেটেড মেসেজ ও ই-মেলের মাধ্যমে আবেদনকারীদের পোস্ট অফিসে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় জানানো হচ্ছিল। ফলে সেপ্টেম্বরজুড়ে বহু আবেদনকারীকে কখনও পোস্ট অফিস, কখনও জেলাশাসকের দপ্তরে ছুটতে হয়েছে। পোস্ট অফিসে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, শুনানির স্থান জেলাশাসকের দপ্তরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়েও শুনানি শুরু না হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েন তাঁরা। কবে এবং কীভাবে শুনানি শুরু হবে, সে বিষয়েও সরকারিভাবে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।
এরপর জেলা স্তর থেকে শুনানি মহকুমা স্তরে নামিয়ে এনে ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ফের শুনানি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সিএএ’র আবেদনকারীদের মধ্যে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ