পাটনা: পাটনার অভিজাত গান্ধী ময়দান এলাকা। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১১টা ৪০ মিনিট। বাসভবনের বাইরে গাড়ি এসে থামল ব্যবসায়ী গোপাল খেমকার। মগধ হাসপাতালের মালিক তথা বিজেপি ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ী গাড়ি থেকে নামা মাত্র চলল গুলি। লুটিয়ে পড়লেন তিনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নীল জামা পরা অজ্ঞাতপরিচয় এক দুষ্কৃতী গুলি চালিয়ে বাইক নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। ঘটনাচক্রে, সাত বছর আগে ২০১৮ সালে ঠিক একইভাবে হাজিপুরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল বিহারের এই খ্যাতনামা ব্যবসায়ীর ছেলে গুঞ্জন খেমকারও। শুক্রবার রাতে খাস পাটনা শহরে থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ব্যবসায়ী খুনের এই ঘটনায় ভোটমুখী বিহারে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের এনডিএ সরকারকে ‘জঙ্গলরাজ’ কটাক্ষ ফিরিয়ে দিয়েছে বিরোধীরা। প্রবল চাপের মুখে পড়ে শনিবার তড়িঘড়ি পুলিস ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। আর সেই বৈঠক থেকেই তাঁর নির্দেশ, যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের গ্রেপ্তার করে তদন্তের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। পুলিস জানিয়েছে, ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী গোপাল খেমকার পরিবারের কয়েকজন সদস্য পুলিসি গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার অন্তত দু’ঘণ্টা পর পুলিস এসে পৌঁছয়। এরপর এদিন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার। গাফিলতির প্রমাণ মিললে দোষী অফিসারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও গাফিলতির অভিযোগ উড়িয়ে বিহার পুলিসের ডিজি বিনয় কুমার বলেন, ‘পুলিসি পদক্ষেপে বিলম্বের প্রশ্নই উঠছে না। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে গুলি চলে। ব্যবসায়ীর পরিবার তাঁকে কাঁকেরবাগ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এজন্য ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনার কথা পুলিসকে জানায়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। খুনের নেপথ্যে কোনও পুরনো শত্রুতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এবিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই পুলিসের হাতে এসেছে।’ পাটনা সেন্ট্রালের পুলিস সুপার দীক্ষা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কার্তুজ ও একটি ফাঁকা খোল উদ্ধার হয়েছে।’



