নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই বিজেপির বার্তা ছিল, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। কিন্তু হাওড়ার ইছাপুরে দুর্গাপুজোর চাঁদা ঘিরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ সামনে আসতেই সেই স্লোগানের উলটো ছবিই ধরা পড়ল। অভিযোগ, দাবি মতো চাঁদা না দেওয়ায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতির নেতৃত্বে এক কারখানার মালিককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় শুধু চাঁদার জুলুমের অভিযোগই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুজোর মুখে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। বুধবার দুপুরের এই ঘটনায় গুরুতর জখম কারখানার মালিক পলাশ ছড়িকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে দু’জনকে আটক করেছে জগাছা থানার পুলিশ।
অভিযোগ, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ কামারডাঙার একটি স্থানীয় ক্লাবের বেশ কয়েকজন সদস্য বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে ইছাপুরের ওই কারখানায় চড়াও হয়। শিবপুর কেন্দ্রের বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তথা ওই ক্লাবের সম্পাদক সন্দীপ মাল ওরফে রাজার নেতৃত্বে এই হামলা চলে বলে অভিযোগ। চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় কারখানার মালিককে মারধর করা হয়। তাঁর মাথা ও মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। আহত ব্যবসায়ীর ভাই তথা শিবপুর কেন্দ্রের বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পল্লব ছড়ির অভিযোগ, তাঁর দাদা ব্যবসা করেন। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই। তা সত্ত্বেও সন্দীপ মালের নেতৃত্বে ক্লাবের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় এসে দাদার উপর হামলা চালাল। এই ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। পুলিশের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন পল্লব।
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ পালও চাঁদা নিয়ে জুলুমের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পুজোর আগে এই ধরনের ঘটনায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। ইদানীং ক্লাবে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সন্দীপ মাল। তাঁর দাবি, ক্লাবের ছেলেরা জোর করে চাঁদা তোলে না। ক্লাবের সদস্য ও পাড়ার বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় চাঁদা দেন। যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখুক। তবে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই দলের এক মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিজেপি নেতৃত্বের অস্বস্তি বেড়েছে। তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখছে জগাছা থানার পুলিশ।



